নিজস্ব প্রতিবেদক : আসছে বাজেট অধিবেশনেই বিচারপতি অপসারণে একটি সম্পূরক আইন আসছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
তিনি বলেন, এর আগে সংবিধান ষোড়শ সংশোধনী বিল সংসদে পাস হয়েছে। বিলটি পাসের সময় বলা হয়েছিলো বিচারপতি অপসারণ কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিরূপণ করতে আইন করা হবে। সে লক্ষ্যেই ‘বিহেভিয়ার ইনক্যাপাসিটি অব জাজেস’ শীর্ষক আইনটি এই বাজেট অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর জাতীয় জাতীয় সংসদ ভবনে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিং এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত।
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, সংবিধান ষোড়শ সংশোধনী বিলটি পাস হওয়ার পর এই আইনটি খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিলো। কেননা আইনটি না থাকায় এতো দিন ষোড়শ সংশোধনী অকার্যকর ছিলো। সম্পূরক এ আইনটি পাস হলে বিচারপতিদের অপসারণে আর কোন বাধা থাকবে না।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল প্রতিষ্ঠানেরই সংসদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপতিদের বেলাতেও তাই। ইতোমধ্যে আইনের একটি খসড়া মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে। খসড়া আইনটি সংসদে আসলে তখন কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে আইনটি পাসের জন্য পাঠাবে। তার আগে বিশেষজ্ঞাদের সাথে পরামর্শ করা হবে।
সভাপতি আরো বলেন, বিচারপতিদের অসাদচরণ ও অসামর্থ্য প্রমাণিত করবে বিচারপতিরাই। তারাই ঠিক করবে কোন বিচারপতির আচারণ ভালো বা মন্দ কে, বা কে কাজ করতে পারবেন না (অসমর্থ)। তাদের সুপারিশে সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে। এটাই হচ্ছে আইনের মূল কথা।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধান (ষোড়শ সংশধোন) বিল-২০১৪ পাস হয়। বিলটিতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন কয়দিন পরেই। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়ে গেছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানাযায়, জনগুরুত্বসম্পন্ন ও চাঞ্চল্যকর ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিস্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণ ও তা নিরসণে অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনা করা হয় বৈঠকে। দ্রুতই ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার নিষ্পত্তি হবে।
কমিটি সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটি সদস্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. শামসুল হক টুকু, মো. আব্দুল মজিদ খান, তালুকদার মো. ইউনুস, সফুরা বেগম প্রমুখ।
এছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

