আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিজের যমজ সন্তানের ভরণপোষণের দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে মামলা করেন এক মা। তবে যমজ দু’টি সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। তাই আইনি লড়াইয়ের পর করা হয় ডিএনএ পরীক্ষা। যেখানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, দুই কন্যা শিশুর বাবা দু’জন!
নিউজার্সির পাসাইক কাউন্টির বিচারক সোহেল মোহাম্মদ তার রায়ে বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষায় তিনি নিশ্চিত যে ওই নারী যাকে দু’সন্তানের বাবা দাবি করছেন তিনি আসলে একটি সন্তানের বাবা। অন্য সন্তানটি অন্য একজন পুরুষের!’ যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের দু’টো ঘটনার সন্ধান পেয়েছেন বলে তিনি জানান।
কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক নারীর গর্ভে একই সময় দুই পুরুষের সন্তান ধারণের ঘটনা বিরল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নারী যদি তার একবারের মাসিকচক্রের মধ্যে দু’জন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান এবং দু’টি ক্ষেত্রেই ডিম্ব তৈরি হয় তবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
ওই যমজ সন্তান দু’টি ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয়। বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর তাদের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
আদালতে ওই নারী স্বীকার করেন যে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দু’জন পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। এরপরই আদালত নির্দেশ দেন ওই শিশুসহ সবার ডিএনএ পরীক্ষা করার। আমেরিকার পরিচিতি চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত গবেষণাগারে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
গবেষণাগারের পরিচালক কার্ল হার্নস উরজিঙ্গার যে রিপোর্ট দেন তাতে দেখা যায়, দুই শিশুর দুই বাবা। কারণ একটি শিশু কালো এবং অপর একটি শিশু শ্বেত বর্ণের হয়েছে।
পরিচালক জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। প্রতি ১৩ হাজারে একজনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে বিচারক তার রায়ে এক সন্তানের বাবাকে প্রতি সপ্তাহে ২৮ ডলার দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অন্য সন্তান কিছুই পাচ্ছেন না। কারণ ওই সন্তানটি অন্য এক পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার ফল।

