ঢাকাSunday , 10 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজস্বের লোভ দেখিয়ে সিগারেটে কর কমানোর প্রস্তাব

Link Copied!

discussion-on-budgetঅর্থণৈতিক প্রতিবেদক : জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ে সমাজের সচেতন মহল থেকে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হলেও আসছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজটকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তামাকজাত পণ্যের ওপর থেকে ১০ শতাংশ কর মওকুফের দাবি জানিয়েছে সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
এমন দাবির পেছনে এই অ্যাসোসিয়েশনের যুক্তি, বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য কর মওকুফ জরুরি। সেই সঙ্গে অবৈধ সিগারেটের অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে এ প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করা হয়। এনবিআরের সদস্য এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় টোবাকো অ্যাসোসিয়েশেনর প্রতিনিধি ও এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি সরকারের জন্য রাজস্ব আদায়ের একটা বড় খাত। আমরা প্রতিবছরই এ বিষয়টি মাথায় রেখেই কিছু প্রস্তাবনা দিয়ে থাকি। এবারে সেই রকম লিখিত কোনো প্রস্তাব নিয়ে আসিনি। তবে বিভিন্ন স্তরে তামাকজাত পণ্যের ওপর যে কর আরোপ করা হয়েছে তাতে করে আমরা অন্যান্য দেশ, যেমন- ভারত ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারি না। তাই সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সময়ে কোম্পানিগুলো টিকিয়ে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। যাতে এমন না হয় রাজস্ব আরোপের কারণে সিগারেট কোম্পানিগুলো মুখ থবড়ে না পড়ে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এজন্য এই ইন্ড্রাস্ট্রিকে একটি লাভজনক খাত হিসাবে বিবেচনা করে ওইসব কর থেকে ১০ শতাংশ কর কমালে আমরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবো। আরো বেশি রাজস্ব দিতেও সক্ষম হবো।’
প্রসঙ্গত, চলতি (২০১৪-১৫) অর্থ-বছরে বাংলাদেশে সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর বিদ্যমান। এই স্তরগুলোর ওপর সম্পূরক করের হার ৪৩ থেকে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত। আর ১৫ শতাংশ মূসকসহ করভার দাঁড়ায় ৫৮ থেকে ৭৬ শতাংশ। বিড়ির ক্ষেত্রেও শলাকার পরিমাণ ভেদে ভিন্ন ভিন্ন করহার প্রযোজ্য। বিড়ির ধরন-ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন ভেদে কর ধার্য করা হয়। এছাড়া ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের ওপর ধার্যকৃত সম্পূরক কর ৬০ শতাংশ এবং মূসক ১৫ শতাংশ।
গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সিগারেট শিল্প আগে গ্রোইং ইন্ডাস্ট্রি ছিল। তবে এখন এই শিল্প ম্যাচিউর ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, সিগারেটের নেতিবাচক প্রচার ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি সবমিলিয়ে এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি থেমে গেছে। তাই আমি মনে করি একটা গ্রোইং ইন্ডাস্ট্রির মতো ম্যাচিউর ইন্ডাস্ট্রিকে কর আরোপ করা যায় না।’
অবৈধ সিগারেটের অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিগারেটের ওপর তুলনামূলক কর বেশি আরোপ করার কারণে অবৈধ পথে এর অনুপ্রবেশ বেড়ে যাচ্ছে। যার কারণে প্রিমিয়াম স্লাবে ডিউটি ফ্রি প্রাইস ১৬ ডলার থাকলেও দেশীয় বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩ ডলারে। টাকার অংকে যার পার্থক্য প্রায় সাড়ে ৫০০ টাকা। তাই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবার সময় এসে গেছে। যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় তবে একদিকে বাজার নষ্ট ও অন্য দিকে সরকার রাজস্ব হারাবে আরো বেশি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অপারেট করা ব্র্যান্ডের ওপর কর নির্ধারণ সমন্বয় করতে হবে। এরমধ্যে কোন লেবেলটি কেমন প্রাইস নিতে পারে তা এনবিআরকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাই এমন একটা কর আরোপ করা উচিৎ যাতে কোম্পানিগুলো টিকে থাকতে পারে।’
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআরের সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, ‘সব কিছু সমন্বয় করে কর আরোপ করা হবে।’