নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে বারবার আদেশ দেয়া হলেও তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারার বিষয়ে পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার শুনানি চলাকালে চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এর আগে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পাঁচ আসামির মধ্যে মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা ও বাকিদেরকে গ্রেপ্তারে অপারগতা দেখিয়ে একটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে পুলিশের পক্ষে ওই প্রতিবেদনটি দাখিল ও এর শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। প্রতিবেদনটির শুনানি চলাকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা) মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে আসামিদের গ্রেপ্তার চেয়ে বারবার আবেদন করেন। আর আমরা গ্রেপ্তারের আদেশ দেই। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারে না।’
এসময় আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ট্রাইব্যুনাল।
পরে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।
একই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা তদন্ত সংস্থার নেই। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশের উপর নির্ভর করে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত সংস্থাকে ক্ষমতা দেয়া হলে এসব সমস্যার সমাধান হতো। তবে এভাবে চলতে থাকলে পলাতক আসামিদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের ৫ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও এদের মধ্যে চারজনকেই গ্রেপ্তারে ব্যার্থ হয়েছে পুলিশ। এসব আসামিরা হলেন- কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, নাসির উদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন এবং আজহারুল ইসলাম। ৫ আসামির মধ্যে শুধুমাত্র শামসুদ্দিন আহম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামালপুরের ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও পুলিশ তাদের মধ্যে মাত্র দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট শামছুল হক (৭৫) ও সিহংজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এসএম ইউসুফ আলী (৮২)।
এছাড়া পলাতক রয়েছেন- মো. আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, হারুন, মো. আবুল কাসেম ও মো. আব্দুল বারি।
পরে ট্রাইব্যুনালের ক্ষোভের বিষয়ে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কিছু আসামিকে এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক। তাছাড়া আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে এসব মামলা পরিচালনা অনেক কষ্টসাধ্য। কেননা পলাতক আসামিদের হামলার ভয়ে ও নিরাপত্তার অভাবে মামলার সাক্ষি ও হতাহতরা ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে চান না। তাই মামলার বিচারপ্রার্থী ও আমরা প্রসিকিউটররাও এসব মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় অসুন্তুষ্ট প্রকাশ করছি।’

