অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড গঠনের ব্যবস্থা রেখে সংশোধিত শ্রম আইন-২০১৩ এর আলোকে শ্রম বিধিমালা-২০১৫ প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। শ্রমিকদের ইন্সুরেন্স ও চাকরির নিশ্চয়তার পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে শিল্পের মোট রপ্তানির শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ জমার বিধান রাখা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে শিল্প মালিকদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিধিমালাটি প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়। চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর তা চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এর আগে সম্প্রতি শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করে আন্তঃমন্ত্রণালয়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রানাপ্লাজা ধসের পর আমাদের ওপর আন্তর্জাতিক প্রচণ্ড চাপ ছিল। কমপ্লায়েন্স ও শ্রম আইনের কথা বলে কেউ কেউ জিএসপি বাতিল করেছে। এ ঘটনার পর তিন মাসের মধ্যে আমরা শ্রম আইন-২০১৩ সংশোধন করেছি। পর্যায়ক্রমে শিল্পের সব শর্ত পূরণ করেছি।’
তিনি বলেন, এর ফলে সবচেয়ে লাভবান হবে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। কারণ মালিক পক্ষ যে রপ্তানি আয় করবে তার শূন্য দশমিক ০.০৩ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দেবে। এ বছরের হিসেবে এর পরিমান হবে ৭২ কোটি টাকা। এ টাকা শুধু শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য যে ২ লাখ টাকার ইন্স্যুরেন্স করা হয়েছে; তা পেতে অনেক সময় লাগে। কেউ যদি দুর্ঘটনায় মারা যায় তাহলে আমরা শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড থেকে তা শ্রমিকদের দেব। প্রতি বছর ফান্ডের এ টাকা বাড়তেই থাকেব। ২০২১ সালে রফতানির পরিমাণ হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। তখন শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের বাৎসরিক আয় শত কোটি টাকা ছাড়াবে।’
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, বিকেএমইএ সভাপতি ও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

