ঢাকাThursday , 7 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৬ রাজাকারের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত রোববার

Link Copied!

International-Crimes-Tribunal-নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের ৮ রাজাকারের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তারে অপারগতা বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
পরে পুলিশের (আইজিপি) পক্ষ থেকে দেয়া ওই প্রতিবেদনের ওপর আদেশের জন্য এবং ৬ জনের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য্যক্রম শুরু করার বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১০ মে রোববার দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জামালপুরের ৮ রাজাকারের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ২ জন ছাড়া বাকি ৬ জনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
জামালপুরে আল-বদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসাইনসহ জেলার আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকউশন।
গত ২১ এপ্রিল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। ২৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।
এ মামলার ৮ আসামিরা হলেন- আশরাফ হোসেন (৬৪), অধ্যাপক শরীফ আহম্মেদ ওরফে শরীফ হোসেন (৭১), মো. আবদুল মান্নান (৬৬), মো. আবদুল বারী (৬২), মো. হারুন (৫৮), মো. আবুল হাশেম (৬৫), শামসুল হক ওরফে বদর ভাই (৭৫) ও এস এম ইউসুফ আলী (৮৩)।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা দু’জন মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পলাতক বাকি ছয়জন ছিলেন আল-বদর বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অ্যাডভোকেট শামসুল এবং সিংহজানি স্কুলের শিক্ষক এসএম ইউসুফ আলী।
এর আগে ৮ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(১), ৪(১) ও ৪(২) ধারা অনুসারে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও লাশ গুমের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৎকালীন জামালপুর মহকুমায় তারা অপরাধগুলো সংঘটিত করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জামালপুরে রাজাকার-আলবদর বাহিনী ও শান্তি কমিটি গঠন, স্থানীয় সাধনা ঔষধালয় দখল করে আলবদর বাহিনী ও শান্তি কমিটির কার্যালয় স্থাপন এবং সিংহজানি হাইস্কুলে আলবদরদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এছাড়া পিটিআই হোস্টেল ও আশেক মাহমুদ কলেজের ডিগ্রি হোস্টেল দখল করে নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে সেগুলোতে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা-গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার ৩৪ জন ও জব্দ তালিকার ৬ জনসহ মোট ৪০ সাক্ষী ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন।
মামলাটির প্রধান আসামি পলাতক আশরাফ হোসেন আল-বদর বাহিনীর জামালপুর মহকুমা কমান্ডার ছিলেন। তার মাধ্যমেই মূলত ইসলামী ছাত্রসংঘের বাছাই করা কর্মীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই তিনি ভারতে পালিয়ে আছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
এছাড়া পলাতক অধ্যাপক শরীফ আহম্মেদ স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এবং বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।
গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে ২৪ মার্চ সকাল ১১টায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয় সেফহোমে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক এবং এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
৯২ পৃষ্ঠার মূল তদন্ত প্রতিবেদনসহ ৫৯৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ, দলিল ও ডকুমেন্টস রয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান ২০১৩ সালের ৬ জুন থেকে গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে মোট দশটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন তদন্ত সংস্থা। সেখান থেকে একটি বাদ দিয়ে ও বাকিগুলোকে সমন্বিত করে মোট পাঁচটি অভিযোগ সম্বলিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন।