নিজস্ব প্রতি্বেদক : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি বিল ভারতীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং রাজ্যসভায় পাসের ফলে এ চুক্তি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা দূর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি ভারতের এ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই সীমান্তে বসবাসকারী যারা বাংলাদেশ অথবা ভারতের নাগরিক হতে চান, যারা বহুদিন থেকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের প্রতি দুই রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব রয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুততার সাথে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। তারিখ নির্ধারণ হলেই জানানো হবে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গতকাল মঙ্গলবার সীমান্তচুক্তি বিল অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আজ বুধবার বিলটি রাজ্যসভায়ও পাস হয়েছে। এখান আগামীকাল বৃহস্পতিবার লোকসভায় তোলা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দুই দেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের কাজ শুরু হবে। এই চুক্তির অধীনে ভারত ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। এই ছিটমহলগুলোর আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের কাছে হস্তান্তর করবে ৫১টি ছিটমহল, যার আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর।
এদিকে পাঁচ দিন সরকারি ছুটির পর বুধবার খুলেছে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র দপ্তর। সেখানে অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই অভিবাসী সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ইতিমধ্যে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপাল থেকে ৭৭ জন মালদ্বীপ ও ৬০০ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে ত্রাণ গেছে, বুধবার আরো নয় টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

