অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৫ বছর মেয়াদী কর রেয়াত সুবিধা দেয়ার দাবি জানিয়েছে অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। একইসঙ্গে আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি জানান ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘যেকোন দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি পুঁজিবাজার। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দ্বারা পুঁজিবাজার সৃষ্টি হয়েছে। পুঁজিবাজারে ধস নামলে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ও বড় বিনিয়োগকারীদের খুব বেশি ক্ষতি না হলেও বিপদগ্রস্ত হন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। ২০১০ সালে এ বাজারে ধস নামার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মৃতদশার কারণে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না পুঁজিবাজার। এদিকে ব্যাংকে তারল্য বাড়ায় যেকোন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য উঠে পড়ে লাগছেন তারা।’
সুলতান মাহমুদের মতে, এ কারণে ব্যক্তি বিনিয়োগের পরিবর্তে ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়ে গেছে। তাই পিছিয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার। এমতাবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাদের ৫ বছর মেয়াদী কর রেয়াত সুবিধা দেয়ার দাবি জানান তিনি।
ইআরএফের এই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সুযোগ ও পরিবেশ না থাকায় টাকা পাচার হচ্ছে। এ টাকায় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে বাড়ি নির্মাণের প্রবণতা অনেক আগ থেকেই রয়েছে। তবে এখন সেসব দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে। তাদের কীভাবে দেশের ভেতরে বিনিয়োগে আগ্রহী করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি অনেক পণ্য রয়েছে যার মূল্য কর ও ভ্যাট দিয়ে উৎপাদন করা দেশীয় পণ্যের তুলনায় কম। ফলে বিদেশি পণ্যে দেশের বাজার সহজলভ্য হচ্ছে। তাই আগামী বাজেটে (২০১৫-১৬) দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
সুলতান মাহমুদ আরো বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর্পোরেট কর দিতে হয়। পূর্বে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে করের পার্থক্য ১০ শতাংশ থাকলেও এখন তা নেই। তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির কর হার কমানো হয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে নতুন কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ কমে গেছে।’
পুঁজিবাজারে এক ধরনের কর হার না রেখে তা পুনর্বিন্যাস দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে সব কোম্পানি ২০ শতাংশের ওপরে লভ্যাংশ দেয় তাদের জন্য এক ধরনের কর হার ও যারা তার চেয়ে কম লভ্যাংশ দেন তাদের জন্য আলাদা কর হার থাকা দরকার।’
এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, সিনিয়র সাংবাদিক, এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফরিদ উদ্দিন ও অন্যান্য বিভাগের সদস্য ও বাজেট প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

