অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চিংড়ি থেকে শুরু করে পুরো মৎস্য খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে খাত-সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেলে সরকার তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ-প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
ইউএন ফুড এন্ড এগ্রিকালচার ওর্গানাইজেশন (ফাও) ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায়- পল্লী কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), বাংলাদেশ মৎস্য ও চিংড়ি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র চিংড়ি ও মাছচাষীদের একীভূতিকরণ, ঋণ ও বাজার সুবিধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
এম এ মান্নান বলেন, ‘অনেকেই বলে এ খাতে বরাদ্দ কম। তবে এ খাতের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ যা আছে তা একেবারে মন্দ নয়। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা তো রয়েছেই। এক্ষেত্রে আপনারা যদি আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে আসেন বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য তবে তা বিবেচনা করা হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা এ খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ব্যাংক ঋণের জন্য কেউ আসলে তাকে আমরা বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে পাঠিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। এজন্য কেউ একবার না পেলে হাল ছাড়লে হবে না, বারবার আসতে হবে। তবে সরকার ব্যাংক ঋণে সুদের হার সার্বিকভাবে কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে।’
এদিকে কিছুদিন আগের টানা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যবসা থেকে শুরু করে অর্থনীতির সবকিছুই নির্ভর করে। তাই এই ধরনের জাতিবিরোধী কাজগুলো সবাই মিলে প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসায়িক উদ্দ্যেশ্য না থাকলে পণ্য বাজারজাত করা কষ্টকর। এসব কাজে তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না। মাছ ও চিংড়িখাত এখন পর্যন্ত গার্মেন্টসের মত অ্যাকোর্ড ও অ্যাল্যায়েন্সের মত সমস্যায় পড়েনি। এখন সময় এসেছে এটাকে প্রাতিষ্ঠানিত রুপ দেয়ার।’
এসময় এখাতের উন্নয়নে পলিসি নির্ধারণে সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে চিংড়ি ও মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থায়ন না করলে এ খাতের উন্নয়নে গৃহীত সব পলিসি ফেইল করতে পারে। তাই রপ্তানিতে কোনো সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রণালয়ে গেলে সমস্যা সমাধান করা হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মৎস চাষীদের জন্য কম সুদে ব্যাংক ঋণ, বাজার সুবিধা বৃদ্ধি, মাছ-চাষে নির্ধারিত স্থানে পানির স্বল্পতা দূরীকরণে সরকারের সহযোগিতা, মাছ রপ্তানিতে সহযোগিতা, ভাইরাসমুক্ত মাছের পোনা সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- পিকেএসএফের এমডি আব্দুল করিম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফাউয়ের প্রতিনিধি মাইক রবসন, এডিবির সাবেক ডিজি সুলতান হাফিজ রহামান প্রমুখ।

