কুমিল্লা প্রতিনিধি : গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ৬০ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ। এছাড় মাটি ও বালিবাহী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের ফলে নদীর দুই তীরের রাস্তার এখন বেহাল দশা।
দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নদীর চর ও আশপাশের এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু পরিবহন করে আসার ফলে রাস্তাঘাট ভেঙে যানবাহান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং, সদর, দেবীদ্বার, মুরাদনগর উপজেলার গোমতী নদীর দুই তীরের প্রায় ৬০ কিলো মিটার এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা প্রভাব অবৈধভাবে মাটি ও বালি উত্তোলন করে ইটভাটা, বাসাবাড়ি, পুকুর ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে সরবরাহ করে আসছে। এ কাজে প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে দুই শতাধিক ট্রাক্টর।
বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সড়ক ও নদী রক্ষার দাবিতে ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পায়নি। এর প্রতিবাদে গত ২০ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে সড়কে গাছ ফেলে এক দিনের জন্য মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করে রাখে এলাকাবাসী। তাতেও টনক নড়েনি ক্ষমতাসীনদের। পরদিন থেকে ঠিকই ট্রাক্টর চলাচল ও মাটি কাটা অব্যাহত রাখে।
কুমিল্লা নগরীর পালপাড়া, বাবুর বাজার, কামাড়খাড়া, বালিখাড়া, পূর্বহুড়া, রামনগর, নানুয়ার বাজার, মিথিলাপুর, শ্রীপুর, গোবিন্দপুর, শ্যামপুর, মালাপাড়া, মনোহরপুর, কংশনগর বাজার, রামচন্দ্রপুর, পারুয়ারা, এতবারপুর, কাঁঠালিয়া, মীরপুরসহ আরও বেশকিছু স্থান দিয়ে গোমতী নদীর মাটি কাটা ও বালি উত্তোলন করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজেশে অব্যাহতভাবে মাটি ও বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।
তবে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, ওই এলাকায় এখন যে ট্রাক্টর চলছে সবই অবৈধ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো অনুমতি নেই।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সময়মতো পুলিশ চেয়েও পাওয়া যায় না। তাই সামান্য জনবল নিয়ে ট্রাক্টর শ্রমিকদের আটক করতে গিয়ে উল্টো মার খেয়ে ফিরে আসতে হয়।
গোবিন্দপুর গ্রামের আবু জাহের মেম্বর, শিবরামপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া মেম্বর, যুবদল নেতা টিটু ও ইউসুফ চৌধুরী জানান, গোমতীর চর থেকে মাটি ও বালি উত্তোলন করতে দিনে-রাতে দুই শতাধিক ট্রাক্টর চলাচল করছে। এতে বেহাল সড়কগুলো আরও ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টির হয়ে যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক দিয়ে জনসাধারণ মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চলাচল করছে। ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে প্রায় দুর্ঘটনাও ঘটছে। ট্রাক্টরের বিকট আওয়াজে শিক্ষর্থীদের লেখাপড়ার মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
অব্যাহত মাটি কাটার ফলে গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ময়নামতি সেনানিবাস এলাকাসহ ৩০-৪০টি পয়েন্ট মওসুমে হুমকির মুখে পড়বে বলে এলাকাবাসী জানান। এসব এলাকায় যেকোনো সময় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।

