নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘শিল্প কল-কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও তারা উপযুক্ত আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ‘শ্রমিকের মর্যাদা ও মানবাধিকার: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ডায়ালগ এইড ফাউন্ডেশন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘বিনা খরচে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও স্বল্প মজুরির শ্রমিকরা যাতে বিভিন্ন আইনি সুযোগ-সুবিধা পান সেজন্য আদালতগুলোতে একটি বিশেষ শাখা রয়েছে। কিন্তু আমার জানা মতে তাদের সহায়তা প্রদান কার্যক্রম ততটা কার্যকরী নয়। এজন্য তাদের কাছে মানুষ খুব কমই আসে।’
সরকারকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়ারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।
শ্রমিকদের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কলকারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করতে সরকার আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে নারী শ্রমিকদের বাসস্থান সমস্যা দূর করতে প্রাথমিকভাবে ৫টি শিল্পে ডরমেটরি তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামীতে গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পএলাকায় পর্যায়ক্রমে ডরমেটরি তৈরির কাজ শুরু করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিকদের কর্মের নিরাপত্তা বিধানের জন্য অর্থৎ তাদের কর্মচ্যুতির ক্ষেত্রে আইএলও কনভেনশনের যে নীতি রয়েছে তা মালিক পক্ষ যাতে যথাযথভাবে অনুসরণ করে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে সফলতা নির্ভর করবে মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও যে দায়িত্ব রয়েছে তা যথাযথভাবে পালনের উপর।’
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শ্রমিক-মালিকদের সম্পর্ক হবে সহযোগিতামূলক, প্রতিযোগিতামূলক নয়। এ জন্য মালিকদেরও যেমন শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে, একইভাবে শ্রমিকরাও মালিকদের প্রতি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আর এটা সম্ভব হবে জাতিকে সাম্যের মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে পারলে। এভাবেই শ্রমিক-মালিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় একটি কল্যাণমুখি শ্রমপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ডায়ালগ এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি আব্দুল বাসেদ মজুমদার, সংবিধান বিশেষজ্ঞ সিরাজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।

