নিজস্ব প্রতিবেদক : পার্বত্য ও উপকুলীয় অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি আয়োজিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেতাদের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রতিনিধি সমাবেশে তিনি এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
পার্বত্য ও উপকুলীয় অঞ্চলে পর্যাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত আছেন, যথা সময়ে এসব অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। ২০১৩ সালের পর থেকে আমাদের দেশে আর কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। তাই শিক্ষকদের উচিৎ সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করা।’
২০১৩ সালে সরকার ২৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ এবং ১ লাখ ৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি সবাইকে সমান সুযোগ দেয়ার জন্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানে আলোকিত দেশ গড়ার জন্য। কিন্তু জোর করে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতায় গিয়ে যার নিজেদের আখের গোছাতে চেয়েছিলো তারা, এমন কি জেনারেল এরশাদও দেশের উন্নয়নের জন্য কিছু করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষকদের চিকিৎসার জন্য উন্নতমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। এই হাসপাতালে শিক্ষকরা চিকিৎসা নিতে পারবেন। আর মেডিকেল কলেজে শিক্ষকদের সন্তানেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে মহীউদ্দীন খান বলেন, ‘কি পাননি সেই দিকে না তাকিয়ে, বরং দেশের তরফ থেকে সরকারের তরফ থেকে কি পেয়েছেন সেটা চিন্তা করে নিজ দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হোন। সরকার ইতোমধ্যে বেতন কমিশনের খসরা ঘোষণা করেছেন। সব সরকারি কর্মচারীর বেতন দ্বিগুন হবে, এর সঙ্গে শিক্ষকরাও যুক্ত থাকবেন।’
দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কতিপয় ধর্মান্ধ ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে নানা কথা বলে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান এ সময় বলেন, ‘ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব বই মাল্টিমিডিয়া করা হয়েছে এবং সেকেন্ডারি পর্যায়ের বই মাল্টিমিডিয়া করা হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া হয়ে গেলে ছাত্র-ছাত্রীরা ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসে ক্লাস করতে পারবে। হরতাল-অবরোধের কারণে ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারলেও তারা ঘরে বসে ক্লাস করতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে অভিযোগ করা হয়, তা রোধ করার জন্য এখন পরীক্ষার দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে ততক্ষনাৎ প্রশ্নপত্র প্রকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মুনছুর আলী প্রমুখ।

