নিজস্ব প্রতিবেদক : গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দানের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ৬৫ নেতাকর্মীর বিচার শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার আদালতে ওইসব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিচারকাজ শুরু হলো।
অভিযোগ গঠন শেষে আগামী ১০ জুন দিন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারক।
এদিন আসামিদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন দাখিল করে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন। শুনানিতে তিনি মামলাটিকে সাজানো ও এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেন। এ মামলার ৩৩নং আসামি সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারকে একই দিনে খুলনার সোনাডাঙ্গায় সংঘটিত আরেকটি ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান। একই ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে না বিধায় এই আসামির অব্যাহতি প্রার্থনা করেন ওই আইনজীবী।
গত ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই শেখ মফিজুর রহমান ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটে ৩০ জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়।
এরপর ওই বছরেরই ৮ ডিসেম্বর নতুন করে ৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে তদন্ত কর্মকর্তা।
এর ঊনিশ দিন পরে আরও এক জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরও বহুদিন পরে তদন্ত কর্মকর্তা আরও এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এই মামলার ৩৩ নম্বর এজাহার নামীয় পলাতক আসামি সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার একই দিনে খুলনার সোনডাঙ্গা থানায় সংঘটিত নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় এজাহার নামীয় এক নম্বর আসামি।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর রাজধানী মতিঝিলের সিটি সেন্টারের সামনে জামায়াত-শিবিরের ২০০ নেতাকর্মী গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, জামায়াতের প্রচার সম্পাদক তাসলিম আলম, জামায়াতের খুলনা এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও দোলোয়ার হোসেন সাঈদী।

