নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্প কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটরে পাইপ লাইনের গ্যাস দেবে না সরকার। একই সঙ্গে পরিকল্পিত শিল্প এলাকা ছাড়া অন্য স্থানে স্থাপিত কারখানা নতুন গ্যাস সংযোগ পাবে না। তবে প্রস্তুত বা নির্মিতব্য কারখানা, যারা সংযোগের জন্য আবেদন করেছে তাদের পর্যায়ক্রমে গ্যাস দেয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এসব কথা বলেন।
ফোরাম ফর অ্যানার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এফইআরবি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এফইআরবির চেয়রাম্যান মোল্লা আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় জ্বালানি সচিব আবু বকর সিদ্দিক, বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। স্বল্প মেয়াদি অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনাগুলো অনেকখানি পিছিয়ে গেছে। সময় লাগছে। তবে আমরা কাজ করছি। সুফল পেতে একটু সময় লাগবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের অনকে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ছোট ছোট প্রকল্প ছাড়াও ১০০ মেগাওয়াটের সৌর প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মধ্যে শুরু হবে।’
এক্ষেত্রে জমি এক বড় বাধা বলে মনে করেন নসরুল হামিদ।
তিনি জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সর্বোত্তম ব্যবহারে উপায় খুঁজে বের করতে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সেখানে একটি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
যৌথ প্রকল্প হলেও রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণ সংগ্রহের জন্য সভরেন্ট গ্যারান্টি বাংলাদেশ দিচ্ছে কেন- এমন প্রশ্নে জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তি এভাবেই করা হয়েছে।’
ভবিষ্যতের বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য এরকম সভরেন্ট গ্যারান্টি সরকারের পক্ষ দেয়া সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেয়া যাবে।’
সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের চলমান প্রক্রিয়া বর্তমানের মডেল উৎপাদন-বণ্টন চুক্তিপত্র (পিএসসি) ২০১২ অনুসারেই হবে। চুক্তিপত্রে উল্লেখিত গ্যাসের এখন মূল্য বাড়ছে না। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে (২০১৭/১৮ সালের দিকে) এটা পর্যালোচানা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জ্বালানি সচিব জানিয়েছেন, মডেল পিএসসির একটি নতুন খসড়া পেট্রোবাংলা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে সেটা এখনই কার্যক্রর হচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে মাল্টিক্লেইন জরিপের পর নতুন দরপত্র আহ্বানকালে নতুন মডেল পিএসসি নিয়ে কাজ করা হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক উদ্যোক্তাই অর্থ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরো জানিয়েছেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎতের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সোয়া লাখের মত প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে এক্ষেত্রে একটা সফলতা আসবে।
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সেকে আরো শক্তিশালি করার জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথ অংশিদারিত্বে কাজ করবে বাপেক্স। এজন্য একটি কর্ম পরিকল্পনা শিগগিরই প্রণয়ন করা হবে।’
এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাতারের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের অনেক দেশের বড় বড় কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ‘সরকার এলপিজিকে সহজলভ্য করতে একটি নীতিমালা করছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও বোতলজাত গ্যাস গ্রাহকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা হবে।’
আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা, নতুন তেল শোধনাগার স্থাপনসহ সরকারের গৃহীত নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

