অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : আগামী তিন বছর পর বাজেটের আকার ৫ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব কেটে গিয়ে চাঙাভাব ফিরে আসায় বাজেটের আকার বাড়াতে সমস্যা হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত বুধবার সচিবালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী ছাড়াও সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদল, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব ছিল। তবে শিগগিরই তা কেটে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দুই বছরের বাজেট প্রণয়ন করা হবে।’
মুহিত বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বাজেটে অবকাঠামো ও পরিবহন খাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। এবার এগুলোর এর সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে আর কোনো নতুন রাস্তা তৈরি করা হবে না। শুধু পুরনো রাস্তা সংস্কার করা হবে। কারণ এমনিতে অনেক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন করে আর তৈরির প্রয়োজন নেই।’
প্রাক-বাজেট আলোচনায় ইআরএফ এর পক্ষ থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়নে জমির স্বল্পতা, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন ও পরিবেশ সমুন্নত রাখা, পর্যায়ক্রমে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন, কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, আয়কর রিটার্ন দাখিল আরও সহজ করা, কালো টাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
সাংবাদিকদের এসব সুপারিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে এবারের বাজেটে কর্পোরেট ট্যাক্সের ওপর বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। আমার কাছে এটা যৌক্তিক মনে হয় না। এ বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সারচার্জের বিষয়টিও নিয়ে ভাবা হবে।’

