অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বেশি। শিল্পের কাঁচামাল আমদানীর কারণেই এ দু‘টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারত ও চীন বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। তবে বিসিআইএম কার্যকর হলে এ বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
গত বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল আয়োজিত ‘বিসিআইএম ইকোনমিক করিডোর: হারমোনিয়াস সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিশ বাণিজ্যে সার্কভুক্ত দেশসমূহের অবদান কম। বাংলাদেশ চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার (বিসিআইএম) যোগাযোগ স্থাপিত হলে এ বাণিজ্যের পরিমান অনেক বেড়ে যাবে। বিসিআইএম এ অঞ্চলের বাণিজ্য সুবিধা সৃষ্টি করে দিবে। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়বে। বিসিআইএম বাস্তবায়নের ফলে বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশ অনেক লাভবান হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তিতে চীনের অবস্থান দ্বিতীয় এবং ভারতের অবস্থান তৃতীয়। কাঁচামাল আমদানীর কারণেই এ দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। যা বিসিআইএম কার্যকর উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান থেকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে, সামাজিক অনেক ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু এবং উন্নয়ন সহযোগী। চীনের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে সহায়তা করতে মুন্সিগঞ্জ জেলার বাউসিয়ায় তৈরি পোশাক পল্লী নির্মাণ, পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্য মেলা ক্যাম্পাস এবং কর্ণফুলি টারেলের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ চীনকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প গড়ে তোলার জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশে চীনের শিল্প খাতে বিনিয়োগ অনেকগুণ বেড়ে যাবে। ভারত সরকারও বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন নেশাদ্রব্য ও অস্ত্রছাড়া বাংলাদেশের সব পণ্য ভারতে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘বিসিআইএম কার্যকর হলে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে এবং বাংলাদেশ ব্যবসায়িকভাবে উপকৃত হবে। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ বাণিজ্য সমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে সংযুক্তির ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশিদার হতে পারবে।’
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াস, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সঞ্জিব চক্রবর্তী, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও বিসিআইএম বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বারের প্রেসিডেন্ট গোলাম দস্তগীর গাজী, বাংলাদেশ-মায়ানমার চেম্বারের প্রেসিডেন্ট কে বি আহমেদ বিষয়ের উপর বক্তব্য দেন।

