অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তৈরি পোশাক শিল্প খাত ভালো নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কোরামিন ইনজেকশন দরকার’।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আজকের আলোচনায় তৈরি পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলোর মধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ইএবি এবং বিজিএপিএমইএ অংশ নেয়। এসময় তারা আগামী ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা পেশ করেন।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগামীতে অসম্ভব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্প ভালো নেই। বিশেষ করে যারা রপ্তানিকারক, তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। তাই এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘কোরামিন ইনজেকশন’ দরকার। তাছাড়া গার্মেন্টস খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালের পর শেয়ারড বিল্ডিংয়ে কোনো বায়ার অর্ডার দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ৪০ শতাংশ ফ্যাক্টরি এখনো শেয়ারড বিল্ডিংয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কারখানায় ১৪ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। যেসব ফ্যাক্টরি স্থানান্তর ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চায় তাদের বাজেটে বিশেষ সুবিধা দেয়া উচিৎ।’
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘রানা প্লাজার ধসের পর ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক এফএফসি (ফেয়ার ফ্যাক্টরিক্লিয়ারিং হাউজ) নামের একটি ওয়েবসাইট করা হয়েছে। এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২২০টি ব্রান্ডের ক্রেতারা বিদেশে বসেই বিজিএমইএভুক্ত ১ হাজার ৭০০ ফ্যাক্টরির আপডেট দেখতে পারেন। ভবনের ফাটল ও সামান্য ত্রুটিও এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেখা যাবে। ফলে কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরি ছাড়া আর কেউ ব্যবসা করতে পারবে না।’
সেইসঙ্গে ফ্যাক্টরিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং, ইটিপি স্থাপনসহ বেশ কিছু সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দেন আতিকুল ইসলাম।
এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি আসলাম সানি, ইএবির সভাপতি সালাম মুর্শেদী এবং বিজিএপিএমইএর সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী।
আলোচানায় আগামী ৫ বছরের জন্য রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর হার দশমিক ৩০ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাবও দেয়া হয় তৈরি পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে উৎসে করকেই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার জোর দাবি জানায় তারা।
এ বিষয়ে বিকেএমইএর আসলাম সানি বলেন, ‘রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে কর আরোপ না করে কাটিং এবং মেকিংয়ের ওপর করারোপ প্রস্তাব দেন। এছাড়া নগদ সহায়তা আয়করমুক্ত রাখা, খুচরা যন্ত্রাংশ শুল্কমুক্তভাবে আমদানি, পরিবেশ সুরক্ষা সারচার্জ বাতিল, ফার্নেস অয়েল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া প্রস্তাব দেন।
বিজিএপিএমইএর সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী ইউপি জারির ক্ষমতা ও আমদানি প্রাপ্যতা সংগঠনের হাতে ন্যস্ত, পুরো কারখানাকে বন্ডের আওতা হিসেবে গণ্য, রপ্তানিযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, ‘এখন তৈরি পোশাক খাতের যে রপ্তানি আয় দেখানো হচ্ছে এর পেছনে এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং খাতের অবদান আছে। পশ্চাদমুখি শিল্প হিসেবে এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং খাত এগিয়ে গেলে নীতি সহায়তার অভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নিজেদের সদস্যদের অনুকূলে ইউপি জারি করতে পারলেও বিজিএপিএমইএ পারছে না।’

