ঢাকাSunday , 26 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিজেদের সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

Link Copied!

PMনিজস্ব প্রতিবেদক : সোনার বাংলা গড়তে পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি নিজেদের সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা দেশে-বিদেশে মেধার প্রমাণ রাখবে বলেও আশা করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য, এদেশকে আমরা উন্নত করবো। সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা যেন পরিকল্পিতভাবে দেশকে গড়ে তুলতে পারি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সব শিশুদের স্কুলে ভর্তি ও মানসম্পন্ন পড়াশোনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নে রাজনীতি যেন বাধা না হয় সেদিকেও সবাইকে দৃষ্টি দিতেও বলেন তিনি।
সারাদেশে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৬ জনকে বৃত্তি দেওয়া হয়। যার মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৯ জন ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে রোববার প্রতীকীভাবে বেশ কয়েকজনের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে। কোনো কাজই কঠিন নয়, যদি বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। হ্যাঁ, সফলতা-বিফলতা দুটোই আছে। যেটাই আসুক, তার জন্য মনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, তোমরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, আমাদের দেশে প্রতিটি ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে সোনার বাংলা গড়ার সোনার মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে, সেভাবে প্রস্তুত করবে। এদেশকে সেভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি আমরা, কারো কাছে মাথা নত করি না। আমরা মাথা উঁচু করে চলবো বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের সুন্দর জীবন কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা সব কিছুতেই তোমাদের মনোযোগী হতে হবে। সব কিছুতেই অংশগ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জীবনে শিক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। শিক্ষিত জাতি ছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে শুধু ছেলেদের বেশি করে পড়াতে হবে- এ মানসিকতা ছিলো। মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে কি হবে? বিয়ের পরে তারা তো স্বামীর বাড়ি চলে যাবে। এখন এ ধরনের মানসিকতা কমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেয়েরাই বরং বাবা মাকে বেশি দেখে। তাছাড়া শিক্ষিত সন্তান পেতে হলে, শিক্ষিত জাতি পেতে হলে নারীদের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। মাধ্যমিক ছাত্রী ৫৩ শতাংশ আর ছাত্র ৪৭ শতাংশ। ভবিষ্যতে শিক্ষায় জেন্ডার সমতা আনতে হলে আরো বেশি করে ছাত্র ভর্তি করাতে হবে।
কোনো শিশু পড়াশোনায় ফাঁকি দিচ্ছে কি না আমাদের সেটা দেখতে হবে। কোনো শিশু যেন পড়াশোনার বাইরে না থাকে সেকথা উল্লেখ করে সবার ভর্তি নিশ্চিত করতেও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের সমালোচনা শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক এসএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল অবরোধ দেওয়া হলো। ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার সিডিউল বার বার পরিবর্তন করতে হলো। এতে পড়াশোনার মনও নষ্ট হয়ে যায়। এসব করে তাদের কি অর্জন হলো আমি জানি না।
তারা ককটেল মেরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর চোখটাই নষ্ট করে দিলো। একটা বাচ্চা ছেলে, তার একটা স্বপ্ন ছিলো, তার স্বপ্নটাই ভেঙে চুরমার করে দিলো তারা।
রাজনীতির কারণে যেন লেখাপড়ার ক্ষতি না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। সেই রাজনীতি যখন মানুষের জীবনে অকল্যাণ বয়ে আনে সেটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের। এটা একটা রাজনৈতিক দলের নীতির ব্যাপার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা প্রত্যেকটা স্কুলে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে সব স্কুলে করে দেবো। শিক্ষাটাকে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রযুক্তিসম্পন্ন করে আমরা করবো।
এক হাজার কোটি টাকা সিডমানি দিয়ে ২০১০ সালে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়।
এ ট্রাস্ট ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে স্নাতক (পাস) ও সমমানের পর্যায়ের এক লাখ ২৯ হাজার ৮১০ জন ছাত্রীর মধ্যে ৭২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে এক লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৬ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ হাজার ৯৫৭ জন ছাত্র রয়েছে।
২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের এক কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীকে দুই হাজার দুইশ’ ৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বৃত্তিসহ অন্যান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।