নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দেয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী উত্তাপ যতোদিন থাকবে ততোদিন নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারকাজও পরিচালনা করা হবে।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ভোটারদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দেয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দু’টি করে মোবাইল টিম টহল দেবে। এছাড়াও প্রতি তিনটি ভোট কেন্দ্রের জন্য একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে।’
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের ১ হাজার ৪২৯টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এবং ৫৫৩টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নির্বাচন মনিটরিং করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রধান কন্ট্রোল রুম এবং চারটি সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে পুরো নির্বাচনকে মনিটরিং করা হবে। পুলিশের সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম নির্বাচনের সময় প্রধান কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে।
ডিএমপির গণমাধ্যম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৫ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ২৯ এপ্রিল সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ২৮ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এর বাইরে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। ২৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১ মে রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
২৬ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের জনসভা, অনুষ্ঠান, মিছিল সংগঠিত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী ক্যাম্প তৈরি করতে পারবে না।
পর্যবেক্ষক সংস্থা অনধিক পাঁচজন করে একাধিক ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষণ দল নিয়োগ করতে পারবেন। তারা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তবে তাদেরকে নির্বাচন কমিশন থেকে পাস সংগ্রহ করতে হবে। সাংবাদিকদের বেলায় একই নিয়ম।
ডিএমপি কমিশনার জানান, নির্বাচনের আগের দিন দক্ষিণে ৮টি উত্তরে ৮টি মোট ১৬টি স্থান থেকে ব্যালট সামগ্রী বিতরণ করা হবে। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা থাকবে। বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ক্যামেরা দ্বারা তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করা হবে।’
তিনি আরো জানান, যারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে কিংবা ভয়ভীতি, বাধা প্রদর্শন করতে চেষ্টা করবে তাদেরকে কঠোর ভাবে দমন করা হবে। নির্বাচনী উত্তাপ যতোদিন থাকবে ততোদিন এই আইনশৃঙ্খলা জোরদার থাকবে। নির্বাচনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের সময় ৭০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হবে। প্রতিটি প্লাটুনে ৩০ জন করে সদস্য থাকবে।

