ঢাকাSaturday , 25 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৬০ লাখ ডায়বেটিস রোগীকে সেবা দেবে নরডিস্ক

Link Copied!

nordiskনিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ৬০ লাখ ডায়বেটিস রোগীকে আর্ন্তজাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দেবে ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি নভো নরডিস্কের ইনসুলিন রাইজোডেগ। অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সহজে ও কমসংখ্যক ইনজেকশন গ্রহণের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ কমানোসহ হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকিও কমিয়ে দেয় এ ইনসুলিন। সাধারণ ইনসুলিনের তুলনায় এ আধুনিক ইনসুলিন ডায়বেটিস রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত ও সহজ করে তুলবে।
শুক্রবার ডেইলি স্টার ভবনের আজিজুর রহমান হলে নভো নরডিস্ক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান নাভো নরডিস্কের ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাজিয়ার (মাইক) দোস্তদার।
এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্টদূত হানে ফুগল এসকেআর, নভো নরডিস্কের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যামিলা সিলভেস্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ রাজন কুমার উপস্থিত ছিলেন।
রাইজোডেগ হচ্ছে ডেগলুডেক ও এসর্পাট (৭০:৩০) নামক দুইটি পৃথক ইনসুলিনের সমন্বিত রূপ। যা সত্যিকার অর্থে দীর্ঘসময় কার্যকরী ব্যাসেল ইনসুলিন ও খাবারের সঙ্গে গ্রহণের দ্রুতকার্যকরী ইনসুলিনের সমন্বিত রূপ।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হানে ফুগল এসকেআর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বাংলাদেশে এধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক ওষুধের যাত্রা শুরু করায় আমি আনন্দিত। বাংলাদেশে ডেনমার্কের স্বাস্থ্যখাত ছাড়াও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ আছে। পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ লক্ষ্যপূরণ করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবে।’
যাত্রাশুরু করা নাভো নরডিস্কের পণ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রোগীদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি উদ্ভাবনী ওষুধ তৈরি করে নভো নরডিস্ক। ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই-এ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে কোম্পানিটি। আশা করছি বাংলাদেশের ডায়বিটিক রোগিদের জন্য এ ওষুধ কাজে আসবে।’
মাজিয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫০ লাখ ৯০ হাজার মানুষের ডায়বেটিস আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ অংক দ্বিগুণ হওয়ার আশংকা আছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উন্নতমানের ওষুধ সরবরাহ করা, যা স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা ও বাধা অতিক্রম করতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশের রোগীদের জন্য সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে রাইজোডেগ নিয়ে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
ক্যামিলা সিলভেস্ট বলেন, ‘নভো নরডিস্ক সব সময় এমন সব ওষুধ উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে যা চিকিৎসকদের এবং ডায়বেটিসে আক্রান্ত মানুষদের প্রধান সমস্যাগুলোর সমাধান নিশ্চিত করে। গত ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী নভো নরডিস্ক এমন সব নতুন নতুন ইনসুলিন তৈরি করছে যা ডায়বেটিস মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ রাজন কুমার বলেন, ‘রাইজোডেগ একটি আধুনিক ইনসুলিন যা স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করবে আরও উন্নত রোগ ব্যবস্থাপনায়। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে ডায়বেটিস একটি প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকদের সহযোগিতা ও যথার্থ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক ইনসুলিন অত্যন্ত জরুরি।’
ডায়বেটিস এক ধরনের রোগ সমষ্টি যার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। দেহে ইনসুলিন তৈরি বা ব্যবহার বা উভয়ই না হওয়ার ফলে এ সমস্যা দেখা দেয়।
‘টাইপ টু’ ডায়বেটিস একটি ক্রমঅগ্রসরমান রোগ। এর ফলে পরবর্তী পর্যায়ে রোগীদের গ্লাইসেমিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বা বজায় রাখার জন্য খাদ্য গ্রহণকালীণ ইনসুলিন (বোলাস থেরাপি) ব্যবহারের মাধ্যমে অগ্রবর্তী পর্যায়ের ইনসুলিন ব্যবহার করতে হবে।
সমীক্ষায় দেখা যায় যে বেসাল ইনসুলিন ব্যবহারকারী ৫০ ভাগ ‘টাইপ টু’ ডায়বেটিস রোগী তাদের গ্লাইসেমিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেন না।
প্রয়োজনীয় গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারলে ডায়বেটিস রোগীদের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে যার মধ্যে আছে হৃদরোগ, অন্ধত্ব, বৃক্ক রোগ, স্নায়ুবিক ক্ষতি কিংবা অকাল মৃত্যু।
কোম্পানি সূত্র জানায়, বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ফার্মাসিউটিকাল প্রতিষ্ঠান এসকেএফ বাংলাদেশ এর অত্যাধুনিক প্রস্তুতকারক ফ্যাক্টরিতে নভো নরডিস্ক হিউম্যান ইনসুলিন ভায়ালগুলোর প্রস্তুত করা হয়। তবে সব ইনসুলিন কলম নভো নরডিস্কের ফ্রান্স ও ডেনর্মাকের ফ্যাক্টরি থেকে সরাসরি আমদানি করা হয়।
উল্লেখ্য, নভো নরডিস্ক বিশ্বের ৭৫টি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে কোম্পানিটিতে প্রায় ৪১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। প্রায় ৫০ বছর কোম্পানিটি বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসছে। ২০৩০ মালের মধ্যে নভো নরডিস্কে ৬০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করবে।