আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীদের গুলিতে শুক্রবার নিহত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত সামাজিক এবং মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী সাবিন মাহমুদ। করাচিতে এক আলোচনায় অংশগ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন ৪০ বছরের ওই নারী। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি। করাচি পুলিশের ডিআইজি ড. জামিল আহমেদ একে ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, সাবেন মাহমুদ বেলুচিস্তানের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ওপর এক অনুষ্টানে অংশ নেয়া শেষে শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীরা। খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে চারবার গুলি করা হয়। এতে তার কাঁধ, বুক এবং পেটে গুলি লাগে। স্থানীয় সময় রাত সড়ে নয়টার দিকে তাকে করাচির ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গাড়িতে মেয়ের সঙ্গে থাকা সাবিন মাহমুদের মাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সাবিন দাতব্য সংস্থা ‘দা সেকেন্ড ফ্লোর’য়ের পরিচালক ছিলেন। টি২এফ নামে পরিচিত এই সংস্থাটি বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে নিয়মিত সেমিনার করত। এর ক্যাফে এবং বইয়ের দোকানটিতে নিয়মিত বৈঠক করতেন করাচির মানবাধিকার কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার বেলুচিস্তানের নিখোঁজদের ওপর টি২এফের উদ্যোগে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ২ হাজার ৮শ ২৫ জন নিখোঁজ হয়।

