নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের বক্তব্য তুলে ধরে।
গত ১৬ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি সরকারে অন্যতম দুটি বড় প্রকল্প মাতারবাড়ি ও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
‘রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প: ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি মন্তব্য করে, এ দুই প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে। প্রকল্প দুটিতে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা সম্পাদনে বিভিন্ন অনিয়ম ও জমি অধিগ্রহণে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
একই সঙ্গে তারা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এনেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টিআইবির প্রতিবেদনে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম ও প্রকৃত তথ্যাদি প্রতিফলিত হয়নি। এতে জনমনে প্রকল্প দুটি সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও প্রতিবেদনে অনেক তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এতে বলা হয়, গণশুনানীসহ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে উম্মুক্ত মতবিনিময় করে, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচন করে এ দুটি স্থান বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রামপালের প্রস্তাবিত স্থানটি সুন্দরবনের মূল অংশ (বিশ্ব ঐতিহ্য) থেকে ৭২ কিলোমিটার এবং সুন্দরবনের সীমানা হতে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সম্ভাব্যতা জরিপে মাধ্যমে আর্থ সামজিক উপযোগিতা ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করা হয়েছে। এ প্রকল্প এলাকা হতে মাত্র ১৫০ পরিবারকে পূণর্বাসনের প্রয়োজন হয়। এছাড়া অধিগ্রহণকৃত অধিকাংশ জমিই অকৃষি জমি। প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাথমিক ছাড়পত্র পাওয়ার পরই মাটি ভরাটসহ অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশগত বিষয়গুলোর উপর সর্বোচ্চ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাতারবাড়ি প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়েছে, জলবায়ু তহবিল নয় জাইকার ওভারসিস ডেভলপমেন্ট এসিস্টেন্স ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ, বন্দর, কোল টার্মিনাল ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য জাপান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রকল্প এলাকায় মাত্র ১৬টি পরিবারকে পূর্নবাসন করতে হবে। এখানকারও বেশিরভাগ জমি অকৃষি জমি। প্রকল্পটির পরিবেশ গত প্রভাব সমীক্ষা সম্পাদনের জন্য জাইকা আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে টোকিও ইলেকট্রনিক সার্ভিসেস কোম্পানি লিমিটেডকে নির্বাচন করেছে।
প্রকল্পের জমি সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালা অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং
ক্ষতিপূরণ জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার (জাইকা) কোনো ভূমিকা নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিআইবির প্রতিবেদনে চলমান অর্থ বছরে বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নের জন্য ১১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দ ১৭ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা।
ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবেদন প্রণয়নে টিআইবিকে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করা হয়েছে।

