ঢাকাFriday , 24 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
অনুদানের হিসাবসহ রানার ফাঁসি দাবি

Link Copied!

rana-plazaনিজস্ব প্রতিবেদক : সাভারেরর রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় ভাগ্য খুলে অনেকেই হয়েছেন এমপি-মন্ত্রী। আবার কেউ কেউ হয়েছেন কোটি কোটি টাকা, বহুতল ভবন আর গাড়ির মালিক। অথচ যে মানুষগুলোর জন্য তাদের এ ভাগ্য পরিবর্তন সেই হতভাগ্য শ্রমিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ। সীমাহীন অর্থ কষ্টে আর অভাবেই দিন কাটছে তাদের। ঠিকমতো বেঁচে থাকা তো দূরের কথা বাড়ি-ভাড়া আর ওষুধ খরচ যোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে আহত শ্রমিকদের।
ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক আর হতাহতদের জন্য দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসেছে কোটি কোটি টাকার অনুদান। পাওয়া গেছে বিভিন্ন সংস্থা থেকেও অনেক অর্থ। কিন্তু সে সব অর্থের সঠিক হিসাব মেলেনি আজও।
শুক্রবার সকালে সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে রানা প্লাজার গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত সমাবেশে চোখের পানিতে ক্ষতিপূরণে দাবি জানিয়ে এসব কথা বললেন পঙ্গু শ্রমিক নিলুফা আক্তার।
নিলুফা রানা প্লাজার পঞ্চম তলায় ফ্যান্টম অ্যাপারেলস পোশাক কারখানার সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। ভবন ধসের সময় তার ডান পা দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে। নয় ঘণ্টা পর নিশ্চিত মৃত্যুকুপ থেকে বের করা হলেও তার ডান পা বিকল হয়ে যায়। ধার দেনা করে দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি পাটির। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার পায়ে পচন ধরে গেছে। ঠিকমতো হাঁটতে চলতে ফিরতে পারেন না। চিকিৎসক তার পাটি কেটে ফেলার জন্য বলেছেন।
নিলুফা কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, রানা প্লাজায় তিনি সুইং অপারেটরের কাজ করে মাসে প্রায় দশ হাজার টাকা আয় করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে। সাভার পৌর এলাকায় রাজাশন মহল্লায় তার স্বামী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বড় ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তেন। তবে ভবন ধসের ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেই কোনো কাজ তো দূরের কথা পরিবারের কোনো কাজও করতে পারেন না। বরং তার চলা ফেরার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রতিমাসে ওষুধের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
সরকারিভাবে মাত্র দেড় লাখ টাকা সহযোগিতা পেয়েছেন নিলুফা। তবে গত দুই বছরে তার পায়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দেনা করে চিকিৎসা করান। একদিনে দেনার দায় অন্যদিকে স্বামীর উপার্জনে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একমাত্র ছেলেটির পড়ালেখাও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বাড়ি ভাড়ার টাকা ঠিকমতো না দিতে পারায় প্রতিনিয়তই বাড়ির মালিকের কাছ থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুনতে হয়।
ভবন ধসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে এসে চোখের পানিতে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ফাঁসি দাবি করেন।
এদিকে ভবন ধসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে সাভারের রানা প্লাজার সামনে জড়ো হতে থাকেন ভবন ধসে আহত, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনেরা।
আনোয়ার হোসেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাভারের মজিদপুর এলাকায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই রানা প্লাজার সপ্তম তলায় অপারেটরের কাজ করতেন। এসময় তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রানা প্লাজার ঘটনায় তাদের দেখিয়ে অনেকেই এমপি আবার মন্ত্রী হয়েছেন। তাদের সহযোগিতার টাকা আত্মসাৎ করে মালিক হয়েছেন কোটি কোটি টাকার। তৈরি করেছেন বহুতল ভবন। অথচ চিকিৎসার জন্য ওষুধ কেনার টাকাও জোটেনি আমাদের ভাগ্যে। তাই অবলিম্বে রানা প্লাজার সব টাকার হিসাব প্রকাশসহ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এসময় রানা প্লাজার ধসের ঘটনায় নিহত আনোয়ার হোসেনের মা আনোয়ার বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে তার একমাত্র ছেলের ছবি হাতে নিয়ে একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ভবন ধসের তৃতীয় দিন তার ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আনোয়ার মারা যাওয়ার সময় চার মাস বয়সের এক অবুঝ সন্তান রেখে যায়। এখন তার বয়স দুই বছর চার মাস। ধসের ঘটনায় তিনি মাত্র দুই লাখ টাকা সহযোগিতা পেয়েছেন। এসময় তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, নিহত, নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের জন্য বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান এসেছে। অথচ আমাদের ভাগ্যে জোটেনি।
এসময় আনোয়ারা বেগম, পঙ্গু শ্রমিক শিউলী, বাম পা হারানো রেহেনাসহ একাধিক শ্রমিক অবিলম্বে রানা প্লাজার অনুদানের সব টাকার হিসাব, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ফাঁসি দাবি করেন।
এদিকে ভবন ধসের ঘটনার দুই বছর উপলক্ষে শুকবার সকাল থেকেই রানা প্লাজার সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এতে রানা প্লাজার আহত শ্রমিক, নিখোঁজ ও নিহতদের স্বজনেরা অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামে বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এতে ভবনের কয়েকটি তলা নিচের দিকে দেবে যায়। কিছু অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১১৭৫ জন শ্রমিক। আহত হয় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এটাই বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি উদ্ধার কাজে অংশ নেয় সাধারণ মানুষ। ভবনটিতে পোশাক কারখানা, একটি ব্যাংক এবং একাধিক অন্যান্য দোকান ছিল। সকালে ব্যস্ত সময়ে এই ধসের ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে ফাটল থাকার কারণে ভবন না ব্যবহারের সতর্কবার্তা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ শিল্প দুর্ঘটনার ১৭ দিন পর ১০ মে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমা নামে এক পোশাক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।