নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৫২ কোটি টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আরো তিনজন ব্যবস্থাপকসহ (ম্যানেজার) চার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধানী টিম।
গতকাল মঙ্গলবার একই অভিযোগে ব্যাংকটির আরো পাঁচ ব্যাবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এই অনুসন্ধানী টিম। আজকের এ জিজ্ঞাসাবাদ বিকেল পর্যন্তু চলবে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করে।
যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আশুলিয়া বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী, উত্তরা শাখার মো. আলী আশরাফ, যশোর শাখার প্রনীল কুমার মন্ডল এবং সাবেক উর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা (বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা) একেএম ফেরদৌস আলম। তারা সবাই বর্তমান কোন না কোন শাখায় কর্মরত আছেন বলে জানা যায়।
দুদক সূত্র জানায়, চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন ওয়াহিদুর রহমান নামে এক কথিত ব্যবসায়ী। এর মধ্যে ঋণ গ্রহণের নামে বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৬৭ কোটি, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১৫২ কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
এর বেশির ভাগ টাকাই তিনি ঋণ নিয়েছেন ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে। ব্যাংকে ঋণের আবেদনপত্রে উল্লিখিত নাম-ঠিকানার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
দুদক সূত্র আরও জানায়, এসব টাকার মধ্যে কৃষি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ১৫২ কোটি তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করে। আর কৃষিব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সময় বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকরা মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫২ কোটি টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান শেষে যদি তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, একই অভিযোগে গতকাল কৃষি ব্যাংকের মিরপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মিসেস রোকেয়া বেগম, চকবাজার শাখার মো. আব্দুস সোবহান, জয়দেবপুর শাখার নিখিল রঞ্জন ভৌমিক, নন্দীপাড়া বাজার শাখার মো. দিদারুল আলম এবং গাজীপুরের শফিপুর শাখার মো. আফছার উদ্দিনকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

