যশোর প্রতিনিধি : যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপিপন্থি চার ব্যবসায়ী সোমবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তুললেও ব্যবসায়ীদের দাবি, চেম্বর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় হয়রানি করতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরের ব্যবসায়ীরা শহরে মিছিল শেষে কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে। একইসঙ্গে তাদের মুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
আটকৃরা হলেন- চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সহ সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সদস্য সাজ্জাদুর রহমান সুজা, যশোর জেলা মোটর পার্টস টায়ার টিউব ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মোস্তফা গোলাম কাদের, ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান ঠান্ডা ও মোকছেদ আলী।
যশোর জেলা মটর পার্টস ও টায়ার টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক লিটন বলেন, ‘আটক চার ব্যবসায়ী যশোর চেম্বার অব কর্মাস নির্বাচনে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। সরকারদলীয় প্রার্থীদের সম্ভাব্য দু’টি প্যানেল সমঝোতার আলোচনা করছিল। কিন্তু ওই চার ব্যবসায়ীর সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে চাপে ফেলার জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যশোরের ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ। ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই।’
এ প্রসঙ্গে যশোর কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আক্কাস আলীর অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে যোগোযোগ করা হলে রিসিভ করেন উপ পরিদর্শক (এসআই) মিজান। তিনি জানান, বুধবারের হরতালে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, আগামী ১৬ মে যশোর চেম্বার অব কমার্স নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার ৬৮জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শ্রেণীতে ১২টি পদের বিপরীতে ৪৫ জন ও সহযোগী শ্রেণী বিভাগে ৬টি পদের বিপরীতে ২৩ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ এপ্রিল।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী নেতারা দু’টি প্যানেলে নির্বাচন করতে কৌশলী হয়েছেন। এজন্য দুটি প্যানেলের বাইরে তৃতীয় প্যানেল না রাখতে বিএনপিপন্থি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় চাপে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

