নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে একশ সাতাশ কোটি টাকা সংগৃহীত হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় হয়েছে মাত্র উনিশ কোটি টাকা। প্রকৃত অর্থে একশ সাতাশ কোটি টাকাই ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য।
‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ: গত এক বছরের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীষর্ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেলেও তা জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমনকি সময়মত তাদের প্রাপ্য মজুরিও শ্রমিকরা পান না। দুর্ঘটনা পরবর্তী বিভিন্ন আইন করা হলেও আইনের অপব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে।’
গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি আরো বলছে, ‘রানাপ্লাজা ট্রাজেডি-উত্তর পোশাক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণে সরকার ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের বহুমুখী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গত এক বছরে ৬০ শতাংশ অগ্রগতি হলেও শ্রমিক অধিকার, চাকরিকালীন নিরাপত্তা ও বিবিধ সুবিধা প্রদানে বিভিন্ন কারণে অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।’
২০১৪-১৫ সালের নতুন একটিসহ ৫৫টি সূচকে চলমান ৮০টি উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে টিআইবি বলেছে, গৃহীত উদ্যোগের মধ্যে ১২টির বাস্তবায়ন সম্পন্ন এবং ৪৮টির বাস্তবায়ন চলমান থাকলেও এর মধ্যে ১২টি উদ্যোগের বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং অন্য ২০টি উদ্যোগের বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে পড়ায় পোশাক খাতে অর্জিত সুশাসনের অগ্রগতি ধরে রাখা এখন বিবিধ চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।
২০১৪-১৫ সালের নতুন একটিসহ ৫৫টি সূচকে চলমান ৮০টি উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে টিআইবি বলেছে, গৃহীত উদ্যোগের মধ্যে ১২টির বাস্তবায়ন সম্পন্ন এবং ৪৮টির বাস্তবায়ন চলমান থাকলেও এর মধ্যে ১২টি উদ্যোগের বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং অন্য ২০টি উদ্যোগের বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে পড়ায় পোশাক খাতে অর্জিত সুশাসনের অগ্রগতি ধরে রাখা এখন বিবিধ চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতে গৃহীত উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে টিআইবি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও সমন্বয় জোরদার করতে সরকার ও বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বয়ে পাবলিক সেক্টর বোর্ড গঠন করা; সাব-কন্ট্রাক্ট ও ক্ষুদ্র কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা; শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠনের জন্য পোশাকের সংখ্যা প্রতি ১ থেকে ১.৫ সেন্ট প্রদানের (যেখানে বায়ার মালিক অনুপাত হতে পারে ৭৫:২৫) মাধ্যমে একটি ফান্ড গঠন; দ্রুততার সঙ্গে শ্রমিক ডাটাবেজ গঠন করা; সব ধরনের সাব-কন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরির সমন্বিত তালিকা তৈরি করা।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির অ্যাসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নাজমুল হুদা মিনা। উপস্থিত ছিলেন- উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

