নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে প্রচারণায় দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না মর্মে যে বিধি রয়েছে তা কেন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার এ বিষয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদন শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের নির্বাহী প্রধান মো. আমিনুর রহমান এ রিট দায়ের করেন। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. উজ্জল হোসেন।
আদেশে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন মন্ত্রণালয়রে সচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
২০১০ সালে প্রণীত সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ২(ঙ) ধারায় বলা আছে, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজ ছবি ও প্রতীক ব্যতীত কোন রাজনৈতিক দলের নাম বা প্রতীক বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম বা ছবি ছাপাইতে বা ব্যবহার করিতে পারিবে না।’
রিটে আমিনুর উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেউ দলীয়ভাবে প্রতীক না নিলেও দলের সমর্থন নেয়ার পাশাপাশি, নেতাকর্মীরা মনোনীত প্রার্থীর জন্য প্রচারণা করেন। এমন কি দলীয় প্রধান স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীর জন্য সবার সামনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দলের নেতাকর্মীরা কাজও করেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জন্য দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া তার প্রার্থীদের জন্য প্রচারণা ও ভোট চাচ্ছেন। অনুরুপভাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাও পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রচারণায় প্রকাশ করা যাবে না আইন করা থাকলেও সে আইন ও বিধিমালা লংঘন করে যাচ্ছেন সকল রাজনৈতিক দল।’
আমিনুর রহমান আরো বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের কার্যক্রম শুরু করে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। দলীয় প্রধান স্বয়ং চূড়ান্ত করে দিয়েছেন মেয়র পদপ্রার্থী। একই এলাকায় দলের একাধিক মেয়র প্রার্থী থাকলে তাদের ডেকে সমঝোতা করা হয়েছে। এমনকি কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে বাকিদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলে ভালো পদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদের নিবৃত্ত করা হয়েছে।’
সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গত ১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিৎ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও হার-জিতের হিসাবটা হয় দলীয়ভাবে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবেই করা উচিৎ।’
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পক্ষেও মত দিয়ে আইন সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন তিনি।
বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা কী কাজ করে তাদের খোঁজ-খবরও রাখা সহজ হবে। দলের কাছে জবাবদিহিতা তারা করতে পারবে। কিন্তু এখন কোনো খারাপ কাজ করলে জবাবদিহিতার সুযোগ নেই। সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন তাহলে আইন সংশোধন করে দলীয় ভাবে মনোনয়ন ও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’
তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দাবিই ফললো!

