ঢাকাSaturday , 18 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সীমান্তে বন্ধ, গরুর মাংসে আগুন

Link Copied!

COW-Flaesh-pic-BM0000ডেস্ক রিপোর্ট : অবরোধে সব কৃষিপণ্যের দাম কমে গেলেও অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে গরু-মহিষ মাংসের দাম। গত তিন মাসে কেজি প্রতি গরুর মাংসের দাম বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, মাংসের দাম কখনও একলাফে এতটা বাড়েনি। অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে শতকরা ২৫ ভাগ ক্রেতা কমে গেছে। এদিকে, গরুর মাংসের দাম বাড়ায় খামারিরা লাভবান হলেও গরীব ও স্বল্প আয়ের মানুষ প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন মাংস কেনা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার কারণে গত কয়েক মাস ধরে সীমান্ত পথে এপারে আসতে পারছে না গরু-মহিষ। এ কারণে বাংলাদেশে বেড়ে গেছে গরুর মাংসের দাম। অঞ্চল ভেদে কেজি প্রতি বেড়েছে ২০ টাকা থেকে একশ টাকা পর্যন্ত। বৈধ বা অবৈধ দু’পথেই বাংলাদেশে ভারতীয় গরু-মহিষ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চামড়ার দাম না থাকাও মাংসের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ভারত থেকে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে গরু মহিষ আসার সবচেয়ে বড় রুট চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর ও যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে গত তিন মাস ধরে গরু-মহিষ আসা প্রায় বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় গরুতে ভর্তি থাকা গোঁজ ও খাটালগুলো এখন খাঁ খাঁ করছে। আর এ কারণেই দেশে গরুর মাংসের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে ভারতীয় গরু না ঢুকলে প্রাথমিকভাবে হয়তো কিছুটা অসুবিধা হবে। তাই বলে বসে থাকলে চলবে না। আমিষের ঘাটতি পোষাতে গরুর মাংসের দাম কমানোসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে এখনই সময় এসেছে স্থানীয় খামারীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারিতে আনা।
গুড়া থেকে গনেশ দাস জানান, অবরোধে সব কৃষিপণ্যের দাম কমে গেলেও বেড়েছে গরু-মহিষ মাংসের দাম। ভারতীয় গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ এবং চামড়ার দাম না থাকায় মাংসের বাজারে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। গরুর মাংসের দাম বাড়ায় খামারীরা লাভবান হলেও উত্তরাঞ্চলে গরীব ও স্বল্প আয়ের মানুষরা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন মাংস কেনা।
সূত্রমতে, ভারত থেকে উত্তরাঞ্চলের ৮টি করিডোর দিয়ে প্রতিমাসে তিন লাখ ভারতীয় গরু-মহিষ আসতো। ট্রাকে করে এসব গরু-মহিষ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যেত। এখন ভারতীয় গরু-মহিষ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাংসের চাহিদা মেটানো হচ্ছে দেশি গরু-মহিষ দিয়েই ।
বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইদিল মির্জা জানান, ভারতীয় গরু এখন আর আসছে না। অন্যদিকে তিন হাজার টাকার চামড়ার দাম নেমে এসেছে এক হাজার টাকায়। এ কারণেও বেড়ে গেছে গরুর মাংসের দাম। কিছুদিন আগে যে মাংস কেজিতে বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকা দরে তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে তিনশ থেকে তিনশ ৬০ টাকা।
বগুড়া শহর ছাড়াও সান্তাহার, দুপচাঁচিয়া, শেরপুর এলাকার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে থেকে গরু-মহিষের মাংসের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বগুড়ার গরু ব্যবসায়ী জয়নাল আলী জানান, নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে গরুর দাম খুব কম ছিল। ব্যবসায়ীরা গরু কিনলে তাদের প্রতি কেজি মাংসের দাম পড়ত ১৮০-২০০ টাকা। বিক্রি হতো ২৪০-২৬০ টাকা। এখন গরুর দাম বাড়ার কারণে প্রতি কেজি ২৪০-২৫০ টাকা পড়ছে। ব্যবসায়িরা বিক্রি করছে ২৮০-৩০০ টাকায়। আগে মহিষের মাংস বিক্রি হতো ২০০-২২০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়।
জয়নাল আলী আরো জানান, নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে ৬০ কেজি মাংসের গরু বিক্রি হয়েছে ১১-১২ হাজার টাকায়। এখন সেই গরুর দাম ১৪-১৫ হাজার টাকা। ৮০ কেজি গোশতের গরু বিক্রি হয়েছে ১৫-১৭ হাজার টাকায়। এখন তা ১৯-২০ হাজার টাকা। ১২০ কেজি গরু আগে বিক্রি হয়েছে ২৩-২৫ হাজার টাকায়, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩৫ হাজার টাকায়।
গরু মহিষ ব্যবাসায়ীরা জানিয়েছেন, গরুর চেয়ে মহিষ জবাই করে বিক্রি করলে লাভ বেশি। উত্তরাঞ্চলের শতভাগ মহিষই আসে ভারত থেকে।
বগুড়া জেলা মার্কেটিং অফিস, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও একটি বেসরকারি সংস্থার বাজার জরিপে জানা গেছে, গত তিন মাসের ব্যবধানে গরু ও মহিষের মাংস শত করা ২০ থেকে ২২ ভাগ, ভেড়া ও ছাগল ২৫-৩০ ভাগ ও মুরগীর মাংসের দাম শতকরা বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দেয়া তথ্যমতে, মাংসের দাম কখনও একলাফে এতটা বাড়েনি। অস্বাভাবিকভাবে মাংসের দাম বাড়ার ফলে ক্রেতা কমেছে শতকরা অন্তত ২৫ ভাগ।
রংপুর থেকে ফরহাদুজ্জামান ফারুক জানান, সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এলেও ব্যবসায়ীরা এখনও দোহাই দিয়ে চলেছেন হরতাল অবরোধের। আবার বাংলাদেশ ইলিশ না দেয়ায় প্রতিবেশী ভারত থেকে গরু আসছে না বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
আর এসব অজুহাত তুলে গত তিন সপ্তাহ ধরেই বাড়ানো হচ্ছে গরুর মাংসের দাম। কেজি প্রতি বেড়েছে অন্তত ৬০ টাকা করে। কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই যার যেমন ইচ্ছে সেভাবে চলছে বেচাকেনা।
এতে বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বাজার মনিটরিং কমিটির। বর্তমানে রংপুরে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩শ ২০ টাকা থেকে ৩শ ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে মহানগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে গরুর মাংস ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ভারত থেকে গরু আসছে না, তাই বেশি দামে দেশি গরু কিনতে হচ্ছে। একারণে মাংসের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে সীমিত আয়ের ক্রেতারা বলছেন, ‘আমরা তো প্রতিদিন মাংস খাই না। সামান্য যা আয় করি, তা থেকে সপ্তাহে একদিন ভাতের সঙ্গে এক টুকরো মাংস জুটে। কিন্তু যেভাবে হু হু করে দাম বাড়ানো হচ্ছে মনে হয় আর কিছুদিন পর গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।’
সকালে মহানগরীর সিটি বাজার, শাপলা চত্বর, খান বহুমুখী মার্কেট, টার্মিনাল কাঁচা বাজার, সেন্ট্রাল রোড বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, প্রতি কেজি মাংসের দাম তিন সপ্তায় ৩শ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩শ ৬০ টাকায়।
শাপলা চত্বর খান বহুমুখী মার্কেটের আব্দুর রহমান ও ভোলা মিয়া বলেন, ‘হরতাল অবরোধের সময় থেকে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রয়েছে। একারণে বেশি দামে এখন দেশি গরু কিনে বেশি দামে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ভারতীয় গরু আসা শুরু হলে দাম কমাও শুরু হবে’।
কাদের সাথে আলোচনা করে দাম বাড়ানো হয়েছে- এ প্রশ্নের জবাবে জিএল রায় রোডের মাংস ব্যবসায়ী মোসলেম মিয়া বলেন, ‘বেশি দামোত গরু কিনিয়্যা, গোস্ত কতো বেচামো সেটা নিয়্যা ফির কিসের আলোচনা? যার গোস্ত খাবার মনাইবে তায় যত দাম হউক কিনি খাইবে। তাছাড়া পেপার পত্রিকাততো শুননো ভারত থাকি গরু আইসা বন্ধ হইছে।’
এসময় মোসলেম মিয়ার দোকোনে মাংস কিনতে আসা মোজাফফর হোসেন নামে একজন ক্রেতার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ভাই আজও ৩শ ৬০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি মাংস কিনলাম।’
এরশাদ মোড়ে কথা হয় আকমাল হোসেন, মামুন মিয়া, শফিকুলের সাথে। তারা জানান, গত শুক্রবার যে দোকানে ৩শ ২৫ টাকায় এক কেজি মাংস কিনেছে, আজ সেই একই দোকান থেকে সাড়ে ৩শ টাকায় মাংস নিতে হলো। এসময় তারা হঠাৎ হু হু করে মাংসের দাম বাড়ানোর সঠিক কারণ জানার জন্য পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বাজার মালিক সমিতির নেতারা ও বাজার মনিটরিং কমিটির কেউই সঠিক উত্তর জানাতে পারেন নি। বরং তারাও ব্যবাসায়ীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, হাট-বাজারে এখন ভারতীয় গরু না থাকায় গোস্তের দাম বেড়েছে। দেশি গরুর দাম বেশি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মো. জুননুন বলেন, গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে কারো সাথেই আমাদের আলোচনা হয়নি। এব্যাপারে বাজার মনিটরিং কমিটি ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
যশোর থেকে তবিবর রহমান জানান, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে গত তিন মাস ধরে ভারত থেকে গরু আসা প্রায় বন্ধ রয়েছে। ফলে ভারতীয় গরুতে ভর্তি থাকা খাটাল এখন খাঁ খাঁ করছে। আর এ কারণে দেশে গরুর মাংসের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা।
বেনাপোল বন্দর থেকে ছয় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পুটখালিতে রয়েছে গরুর খাটাল। বাংলাদেশের পুটখালি ও ভারতের আংরাইল সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে যে গরু আসে সেগুলো প্রথমে এ খাটালে রাখা হয়। এরপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তদারকিতে শার্শার নাভারন গবাদিপশু শুল্ক করিডোরের মাধ্যমে ভ্যাট প্রদান করা হয়। পরে সেখান থেকে গরু পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্নস্থানে।
নাভারন গবাদিপশু শুল্ক করিডোর সূত্র মতে, ২০১৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর ২ মাসে গরু আসে ১ লাখ ৭০ হাজার। সেখানে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ তিন মাসে গরু এসেছে ৩৭ হাজার ৪০০।
সূত্র মতে, গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একদিকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অপরদিকে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে গো-মাংসের দাম। আগে যেখানে ২৫০ টাকা কেজি মাংস বিক্রি হতো এখন সেখানে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিনশত টাকা।
বেনাপোল বাজারের মাংশ ব্যবসায়ী সিরাজুল ও ইব্রাহিম হোসেন বলেন, সীমান্তের পশু হাটগুলোতে যে গরু বিক্রি হয় তার নব্বই ভাগই ভারতীয়। ভারতীয় গরু আসা এখন বন্ধ থাকায় বেশি দামে গরু কিনতে হচ্ছে। এর ফলে মাংস বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
যশোর শহরের মাংস বিক্রির হাট হিসেবে পরিচিত কাঠেরপুর এলাকার ব্যবসায়ী শওকত হোসেন বাবু জানান, ভারত থেকে গরু না আসায় মাংসের দাম বেড়ে গেছে। আগে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি মাংস বিক্রি করলেও এখন ৩৫০-৩৬০ টাকা বিক্রি করছেন।