নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের ওপর অব্যাহত হামলার ঘটনায় বিদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেখানে থাকা বাংলাদেশিরাও। দেশটিতে গত কয়েকদিন ধরে অভিবাসী বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন অভিবাসী।
বিবিসি এক খবরে জানিয়েছে, সেখানে বিদেশিরা গিয়ে স্থানীয়দের কর্মক্ষেত্র দখল করছে- এমন ক্ষোভ থেকেই এই হামলার শুরু। এর মধ্যেই অনেক বিদেশির পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছে স্থানীয়রা।
জানা গেছে, মূলত আফ্রিকান অভিবাসীদের ওপর স্থানীয়দের আক্রোশ থাকলেও, অন্য বিদেশিদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটছে। বিদেশি মালিকানার অনেক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঘটছে লুটপাটের ঘটনা। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছে সেখানকার পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ পরিষদের সহসভাপতি মো. রেজাউল করীম খান ফারুক বিবিসিকে জানান, কয়েকজন বাংলাদেশির প্রতিষ্ঠানেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অন্যরাও আতঙ্কে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘শহরের বাইরে তো বটেই, অনেক শহর এলাকাতেও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার গণমিছিল হতে যাচ্ছে দেশটির উপকূলীয় শহর ডারবানে।
গত এক সপ্তাহে দেশটিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের ওপর চলমান হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে এই গণমিছিলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও সচেতন নাগরিক সমাজ অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে এসব হামলার প্রতিবাদে জিম্বাবুয়ে হারারেতে কয়েক হাজার বাসিন্দা দক্ষিণ আফ্রিকান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে সম্প্রতি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায়ই স্থানীয় উগ্রপন্থি কৃষ্ণাঙ্গরা অভিবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে। এর আগে ২০০৮ সালে একইভাবে এক সহিংসতায় প্রাণ হারান কমপক্ষে ৬০ জন অভিবাসী।
সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে ইতোমধ্যেই দুই হাজার বিদেশি নাগরিক ডারবানের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি ত্রাণ সংস্থা। পাশাপাশি অনেক বিদেশি নাগরিকই প্রাণভয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ইত্যাদি ফেলে দেশে ফেরত যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

