ঢাকাSaturday , 18 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যৌন সন্ত্রাসীদের খুঁজতে ১২ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ

Link Copied!

tscনিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের দিন নারীদের লাঞ্ছনাকারী অপরাধী চক্রের সদস্যরা তিন দিনেও সনাক্ত হয়নি। তবে সেদিনে ঘটনাস্থলের আশপাশের সব ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য রয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িতরা আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় কেন্দ্রিক বখাটেপনায় সক্রিয় ছিল। ইভটিজিংয়ের পাশাপাশি তারা ছিনতাই, চুরি, বোমা হামলা, মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত। তবে ঘৃণ্য অপকর্ম করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এমনকি হাতের নাগালে পেয়েও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর ফলে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে পুলিশ। এখন  তাদের গ্রেপ্তারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ সদস্যরা।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর শাহবাগ, রমনা থানা এলাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দি উদ্যানসহ সব স্পর্শকাতর স্থান সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। সিসি ক্যামেরা ছিল টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেটেও। সেখানেই একদল যুবক নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনায় শাহাবাগ থানায় মামলা হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছে। তবে গত তিন দিনেও ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করা যায়নি। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে।
এদিকে, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ অন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
গত তিন দিনের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মামলার তদারককারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. ইব্রাহিম ফাতেমী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বর্ষবরণ অনুষ্টানের ১২ ঘন্টার ভিডিও ফুটেজ যাচাই বাছাই চলছে। টিএসসি কেন্দ্রিক যতগুলো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ছিল তার সবগুলো সংগ্রহ করে নারী উত্যক্তকারীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।  সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কির চিত্র দেখা গেলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেদিন যারা নারীদের হেনেস্থা করার চেষ্টা করেছে তাদেরকে এখনও সনাক্ত করা যায়নি।’
পুলিশ সূত্র জানায়, পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ এলাকা ছিল সিসিটিভির (ক্যামেরা) আওতায়। নারী নির্যাতনের ঘটনার পর সেসব সিসি ক্যামেরা সংগ্রহ করা হয়েছে।  ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেক ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কিছু ভিডিওতে মানুষের ভিড়ের মধ্যে নারীদের ধাক্কা দেওয়ার চিত্র মিলেছে। কিছু ভিডিওতে সন্দেহভাজন উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের নানান অপকর্মের চিত্র ধরা পড়েছে। আবার সোহরাওয়ার্দি উদ্যান কেন্দ্রিক কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষের ভিড়ের মধ্যে কিছু পাঞ্জাবি জিন্স পরা কিশোর ও যুবক পেছন থেকে সামনের লোকজনকে ধাক্কা দিচ্ছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে কোনো নরীকে নাজেহাল করার চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি। এমনকি পরিকল্পিতভাবে কোনো নারীকে নাজেহাল করার চিত্রও তারা পাননি। তবে সেদিনের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই বাছাই চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ঢাবি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ। টিএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রয়েছে তিনটি থানা ও দুটি পুলিশ ফাঁড়ি। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে আপরাধীরা ঘুরে বেড়ায়। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে না। ক্যাম্পাসে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে জনসম্মুখে  চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুক্তমনা লেখক ড. অভিজিত রায়কে। সেই সময় ঘটনাস্থলের চারিদিকেই ছিল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি। অন্য সাধারণদের মতো পুলিশ বাহিনীও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। সেই ঘটনার প্রায় দুই মাস হতে চলছে। তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে এমনকি সনাক্ত করতেও পারেনি।
নারীদের যৌন হয়রানীর ঘটনা ক্যাম্পাসে নতুন নয়। ২০০০ সালে থার্টিফার্স্ট নাইটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় একই ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ঘটনা অস্বীকার করেছিল। একদিন পর সংবাদমাধ্যমে ছবিসহ খবর ছাপা হওয়ার পর মামলা হয় এবং পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। পরে সেই নারী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। শত-শত মানুষের সামনে তার শাড়ি টেনে-ছিঁড়ে খুলে ফেলা হয়েছিল।
পহেলা বৈশাখের যৌন হয়রানীর ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে পহেলা বৈশাখ বিকেল চারটার পর  সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেট বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছিল। পুলিশের অবহেলার কারণেই এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটছে। নারী নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত চলছে।’
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় টিএসসিতে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী বর্ষবরণে আসা নারীদের যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের বাধা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দীসহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। ঘটনার পর শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। হাইকোর্ট  থেকে আগামী ১৯ এপ্রিলর মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব (আইজিপি) ও রমনা জোনের ডিসিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়ার পর মহানগর পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রমনা  জোনে কর্তব্যরত মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।