নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রার্থীদের অঙ্গীকারের পাশাপাশি এবার শপথ নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটাররা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশান-১ এর ইম্যানুয়েলস ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজি এক অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার ও শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে মেয়র প্রার্থীদেরকে জনগণের মুখোমুখি করছে সুশাসনের জন্য নাগরিক ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ)। বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র প্রার্থীদের নিয়েও এক অনুষ্ঠান হয়। শুক্রবায় হয় উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের নিয়ে। এসময় মেয়র প্রার্থীরা জনগণের উদ্দেশে বিভিন্ন বক্তব্য ও তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের (নাসফ) সভাপতি মু. হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১২ মেয়র প্রার্থীসহ উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার চার শতাধিক ভোটার।
সুজনের ১৩ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে- সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব না খাটানো ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা। আচরণবিধিসহ সকল প্রকার বিধি-নিধান মেনে চলা। নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলা। সকল কাউন্সিলরদের দিয়ে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন পরিচালনা করা। পরাজিত হলে গণরায় মাথা পেতে নেয়া। সিটি করপোরেশনের সম্পদ বৃদ্ধিসহ স্থায়ী সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। খাদ্য, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা প্রভৃতি মৌলিক মানবিক চাহিদা নিশ্চিতত করতে সবাইকে একত্রিত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। করপোরেশনের অর্থের উন্নয়ন বছর ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ। জনঅংশগ্রণমূলক প্রক্রিয়ায় বার্ষিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাজেট ঘোষণা ও উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা। সকল কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত। দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি পরিহার। নারীর অবস্থান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে করপোরেশনের সকল মানুষের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। ইভটিজিং বন্ধসহ বাল্যবিয়ে, যৌতুক, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা। মুক্তিযোদ্ধা, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, আহত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ। আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। দখলকৃত ভূমিসহ সব ধরনের জলাশয় উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচিত হলে প্রতিবছর ব্যক্তিগত ও পরিবারিক সম্পদ, আয় ব্যয় ও দায় দেনার হিসাব প্রকাশ করা।
এরপর ভোট প্রদানকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীর স্বপক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের শপথ করেন ভোটাররা। শপথ বাক্যে রয়েছে- ‘আমরা অর্থ বা অন্যকিছুর বিনিময়ে অথবা অন্ধ আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবো না। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মিথ্যাচারী, যুদ্ধাপরাধী, নারী নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ঋণ খেলাপী, বিল খেলাপী, ধর্মব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু ও কালোটাকার মালিককে ভোট দেবো না।’
এসময় তারা স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেবো, জেনে-শুনে-বুঝে দেবো। সৎ-যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিকে দেবো।’

