দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বা এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দুই হাজার টাকার গণ্ডি পার হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দুই হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর ফলে রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই জ্বালানি কিনতে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে চলা এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেশি মাত্রায় বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশের পর ২০২১ সালের এপ্রিলে যখন প্রথমবার বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন একটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল মাত্র ৯৭৫ টাকা। এরপর থেকে প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম কমতে বা বাড়তে দেখা গেছে। তবে গত কয়েক বছরে দাম কমার চেয়ে বাড়ার প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম ও জাহাজভাড়া লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের আমদানিনির্ভর বাজারে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আমদানিতে নানা ধরনের জটিলতার কারণে চলতি বছরে একাধিকবার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণপত্র খোলার জটিলতা এবং বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দেশে এলপিজির সামগ্রিক বাজারের প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরকারিভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি খাতের নিজস্ব কোনো বড় আমদানিকাঠামো বা মজুত না থাকায় সংকটময় পরিস্থিতিতে বাজার সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় নীতিনির্ধারকদের। পাইপলাইনে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় এবং বাসাবাড়িতে জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া দামেই সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারের ওপর সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে এবং নিজস্ব মজুত সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে সাধারণ ভোক্তাদের এই ভোগান্তি থেকে সহজে মুক্তি মিলবে না।

