তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা এবং উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সম্প্রতি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে নানা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি প্রকল্পটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজও প্রায় শেষের পথে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পেলে এই উদ্যোগটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি একদল খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন বলে জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন যে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা সিইজিআইএস, নদী কমিশন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এই সব পরামর্শ একত্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির কাজ চলমান রয়েছে, যার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ নদীভাঙন, প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে এবং উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

