নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাংক ধারণা করছে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ হবে। কিন্তু তাদের এ ধারণা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হম মুস্তফা কামাল।
বুধবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে নিজ মন্ত্রণালয়ের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি করেন।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বছরের শুরুতে বলেছিলো আমাদের এবছর ৬ দশমিক ৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। এখন বলছে ৫ দশমিক ৬ ভাগ। তিন মাসের কারণে যদি ১ ভাগ প্রবৃদ্ধি কমে যায় আর যদি এরকম অবস্থা এক বছর চলে তবে তো তাদের হিসেবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ ভাগ কমে যাবে। কিন্তু এটা কি বাস্তবসম্মত? অর্থনীতির গতি ধারা ঠিক থাকায় চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হবে সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। তবে সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে কোনোভাবে আসবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বলছে গত তিনমাস সবকিছু বন্ধ ছিল। তাদের ধারণা ভুল। এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট সব আগের মতোই ছিল। কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খোলা ছিল। কৃষি, শিল্পে রপ্তানি কমেনি। কোনো কারখানা থেকে কারো চাকরি যায়নি। দেশের সব কিছুই ঠিক ছিল, তবে পরিবহন খাতে খরচ একটু বেশি ছিল।’‘হরতাল-অবরোধে কোনো ক্ষতি হয়নি’ সংসদে বলা প্রধানমন্ত্রীর এমন কথা পরিপ্রেক্ষিতে কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ওটা বলেছেন এ ভিত্তিতে যে যদি অরাজকতা না থাকতো তবে আয় আরো বাড়তো। কিন্তু যেহেতু তা হয়নি তার মানে আয় না বাড়াটাই আমাদের ক্ষতি। এ ক্ষতি না হলে আরও ২ বিলিয়ন আয় হতো। তবে হরতালে অনেক মানুষ পুড়ে মারা গেছেন। এটি দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি নিজে একসময় ব্যবসার সঙ্গে জাড়িত ছিলাম। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ব্যবসা করেছি। এ রাস্তা বন্ধ হলে অন্য রাস্তা দিয়ে পণ্য রপ্তানি করেছি। উৎপাদন বন্ধ করিনি। উৎপাদন হয়েছে, যেকোনোভাবে উৎপাদিত পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানো হয়েছে। তাই বলছি, বিশ্বব্যাংক যে তথ্য দিয়েছে তার কিছুটা সত্য। তবে এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কোনো ক্ষতি হয়নি।’
কালো টাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারকে দায়ি করে তিনি বলেন, ‘এর জন্য সরকারের পদ্ধতি দায়ী। মনে করুন, গুলশান এলাকায় এক খণ্ড জমি বিক্রি হল, তার সঠিক দামে নিবন্ধন করা হল না, তাহলে বাকি টাকা গেল কোথায়, বিক্রির সময় যদি সঠিক তথ্য ও দামে জমির রেজিস্ট্রেশন হতো তাহলে কোনো কালো টাকা থাকতো না। তাই কালো টাকার জন্য সরকার দায়ী।’রাজস্ব আয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এডিপি ও রাজস্ব আয় একইভাবে হয়। অর্থবছরের শেষ তিনমাসে যেমন এডিপি বাস্তবায়ন ভালো হয়। একইভাবে শেষের তিনমাসে রাজস্ব আয়ও ভালো হবে। ৮ মাসে ৭৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে বাকি মাসগুলো ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হাতে আসবে।’
উল্লেখ, গত রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদন প্রকাশ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের থেকে জানায়, বছরের শুরু থেকে টানা রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব শফিকুল আযম, শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য গোলাম ফারুক এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা প্রমুখ।

