নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চমাত্রার কর্পোরেট কর কামনোর দাবি জানিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই)। সেই সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক, করমুক্ত আয়সীমা, অফশোর ব্যাংকিং সংক্রান্ত জটিলতা সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানায় এই সংগঠনটি।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানান তিনি। এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এফআইসিসিআইয়ের পক্ষে আব্দুল খালেক মূল প্রস্তাবনা পেশ করেন ।
সংগঠনটির বাজেট বিষয়ক সমন্বয়ক আব্দুল খালেক বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা কর্পোরেট কর। পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ করের হার বেশি। পাবলিক ব্যবসার ক্ষেত্রে এ করের হার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ আর নন পাবলিকলি ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এর হার কমিয়ে যৌক্তিক হার নির্ধারণ করার করার দাবি জানাচ্ছি।’
এফআইসিসিআই সভাপতি রুপালী চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় কর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ করের হার না বাড়িয়ে আওতা বাড়াতে হবে। কর্পোরেট কর প্রতিবেশি অন্যান্য দেশের মতো নির্ধারিত না হলে ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বে। নতুন ভ্যাট আইনে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার হলে স্থানীয় শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে হবে।’
আব্দুল খালেক বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বড় অংশ বিদেশীরা। তাদের বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হলো অফশোর ব্যাংকিং। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশেই এ ব্যাংকিংয়ে শূন্য থেকে ২০ শতাংশ কর নেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অফশোর ও অনশোর উভয় ক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ করারোপ নির্ধারিত থাকায় এখানে বিনিয়োগ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। তাই বিদেশী বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে অফশোর ব্যাংকিংয়ে অন্যন্য দেশের মতো করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক থাকবে না। এটি হলে স্থানীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বেগ পেতে হবে। তাই এ বছর থেকেই স্থানীয় শিল্পকে কিছুটা অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে তাদের সামর্থ বাড়ানোর কাজ করতে হবে।’
এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে লেনদেনের ওপর ধার্যকৃত অতিরিক্ত কর বিনিয়োগে বাধা প্রদান করে। তাই এই কর প্রত্যাহারসহ ০.৫ শতাংশ লভ্যাংশ কর প্রত্যাহার করে মোট লাভের ওপর এ কর ধার্যের প্রস্তাবও করেন তিনি।
আলোচনায় বাংলালিংকের একাউন্টস সেক্রেটারি নুরুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি সিমে ৩০০ টাকা হারে কর দিতে হয়। অথচ এই সিম গ্রাহকদের কাছে এর চেয়েও কম টাকায় বিক্রি করতে হয়। গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে ও কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখতে এ হার কমাতে হবে।’
নেসলে কোম্পানির সচিব দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রায় সব পণ্যই আমদানি করতে হয়। ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিয়ে কম মূল্যে তা গ্রাহকদের সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।’
মেরিকো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন করা হলেও এর কিছু কিছু বিষয় এখন থেকেই প্রাকটিসে নিয়ে আসতে হবে।’
আজকের প্রাক বাজেট আলোচনায়, এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এনবিআরের বিভিন্ন অণু বিভাগের সদস্য, বাজেট প্রণয়ন কমিটি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

