ঢাকাMonday , 13 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হালখাতার সেই রঙ আর নেই

Link Copied!

halkhataচট্টগ্রাম প্রতিনিধি: পহেলা বৈশাখ মানেই হালখাতার উৎসব, ঐতিহ্য। বাঙালির শত বছরের এ ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও আছাদগঞ্জে ব্যবসায়ীরা। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন অপেক্ষায় আছেন হালখাতা খোলার। তবে হালখাতা খোলার ক্ষেত্রে আগের সেই রঙ এখন আর নেই।
দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও আছাদগঞ্জে বাংলা নতুন বছরের শুরুতে হালখাতা অনুষ্ঠান জৌলুস ছড়ালেও কালের আবর্তনে পুরনো এ ঐতিহ্যে এখন হারিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে এক সময় যে জৌলসপূর্ণ হালখাতা অনুষ্ঠান হতো-এখন তার ছিটে ফোটাও নেই। আগের দিনে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের হালখাতার যাত্রা শুরু হয় পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে। লাল মলাটের পঞ্জিকা দেখেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করেন তারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে আসতে থাকে দেনাদার ও পাওনাদাররা। পুরনো সকল হিসাব-নিকাশ শেষ করে শুরু হয় নতুনভাবে পথচলা। আমন্ত্রিতদেরকে মিষ্টি, ফল ও পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর একদিকে নানান মুখরোচক খাবারের স্তূপ, অন্যদিকে টাকার স্তূপ পড়ে যেত। পুরনো জৌলুস এখন আর নেই। আস্তে-আস্তে তা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।জানা গেছে, অন্তত ১৫ বছর আগে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা হালখাতা পালন করতেন বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী। পুরনো রীতিতে নতুন বছরে নতুন খাতায় হিসাব খুলেন তারা। যথাসম্ভব আদায় করে নেন পাওনা টাকা। দোকানকে সাজিয়ে তোলেন বর্ণিল সাজে। পাওনাদার এলেও হাসি মুখে তুলে দেন মিষ্টি। এদিন তারা বেচাকেনা না করে উৎসব আনন্দে মেতে উঠেন। কিন্তু বর্তমানে সে আনন্দ নেই। এখন সীমিত পরিসরে ব্যবসায়ীরা দিনটি পার করেন।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ব্যবসায়িক প্রায় সব কাজ কম্পিউটারে হচ্ছে। এছাড়া টাকা-পয়সার লেনদেন হচ্ছে ব্যাংকে। দেনা-পাওনার হিসাবও হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে। নয়তো ইংরেজি বর্ষের জুন অথবা ডিসেম্বরে। কিন্তু এসবের পরও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এখনো বংশ পরম্পরার হালখাতা খোলার রেওয়াজ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
খাতুনগঞ্জের মিতালী ট্রেডার্সের মালিক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘নতুন বছরটা ভালোভাবে যাবে এমন আশা নিয়ে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন। তবে একসময় বৈশাখের প্রথম দিনটি খাতুনগঞ্জে উৎসবের সাথে পালন করতো ব্যবসায়ীরা। তবে একের পর এক চেক প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ, বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা-অর্থনৈতিক মন্দা ভাবের কারণে এখন আর হালখাতা সেই ভাবে হয়না।’চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাংকে সুদের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু ব্যবসা হচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট দিনে টাকা-পয়সার লেনদেন হয় না। এটা সারাবছর ধরেই চলে। এরপরও পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হালখাতা খোলা হয়।’
খাতুনগঞ্জের আকবর ট্রেডার্সের মালিক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘মুখের কথায় বিশ্বাস করে আগের দিনে ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পণ্য বাকি দিতেন। তার বেশির ভাগই উসুল হতো হালখাতার দিনে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন লেনদেনটা ব্যাংকের মাধ্যমেই হচ্ছে।’
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগির আহমেদ বলেন, ‘একসময় খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখে হালখাতা খোলার উৎসব জমজমাট করে পালন করতো। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দায় এখন এ ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এরপরও হালখাতায় লাল খাতা খোলার রেওয়াজ এখনো টিকে আছে খাতুনগঞ্জে। তবে ১৫-২০ বছর আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে জাঁকজমকভাবে হালখাতার অনুষ্ঠান হতো, তা আর নেই।’
চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও আছাদগঞ্জে তিন হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় প্রায় ১২শ কোটি টাকা। এর মধ্যে মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ লেনদেনই হয় বাকিতে।
প্রসঙ্গত ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ও মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর এর শাসনামল থেকে নতুন বছরের শুরুতে হালখাতার ব্যবহার শুরু হয়। পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন হিসাব খোলা হয় যে খাতায়, তাই হালখাতা নামে পরিচিত।