সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাড্ডার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং যদি সিসিটিভি ফুটেজে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, এ বিষয়ে সরকার আইনি পদক্ষেপ নেবে। অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের কাজ।
সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তার প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তবে সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও ‘অপতথ্য’ ছড়িয়ে পড়েছে। সালমান মুক্তাদিরের মতো মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’’
তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদাবাজির দাবি তুলে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সালমান মুক্তাদির নিজেই এ অভিযোগ তুলে নিলেও বিরোধী দলীয় নেতা এবং এনসিপির নেতৃবৃন্দের সেই স্ট্যাটাসগুলো এখনো ফেসবুকে রয়ে গেছে।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, ‘সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে যে কেউ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন—তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা ও অপতথ্য দিয়ে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ন্যারেটিভ তৈরি করা অপরাধ। সবাইকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। আর বিএনপির নামে চাঁদাবাজির ট্যাগ লাগানো এক ধরনের রাজনীতি হলেও সরকার কেবল ন্যারেটিভে কান না দিয়ে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
এ দিন তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘এ সরকার পুলিশ বাহিনীকে যে পরিস্থিতির মধ্যে পেয়েছে, যে অবস্থায় পেয়েছে, সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমি বলছি—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’
কোথাও কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কোনো রকম দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কিছু হয় না, সেটা কিন্তু আমরা দাবি করছি না। কোথাও কোথাও হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে হচ্ছে, সেখানে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

