ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়মের দোহাই দিয়ে ব্যাংকার গোলাম মর্তুজাকে ঠেকাতে মরিয়া সিন্ডিকেট!

Link Copied!

রূপালী ব্যাংকে ১৯৯৮ ব্যাচের ৩ জনকে ব্যাংকার হিসেবে আমলে নিলে গোলাম মূর্তজা তার মধ্য একজন এমন বক্তব্য রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম ফরিদ উদ্দীনের। তবে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকার আমলে কেরানী থেকে রুপালী ব্যাংকের এমডি বনে যাওয়া ওয়াবাইদুল কাদেরের ডান হাত খ্যাত জাহাঙ্গীরের রোষানলে পড়ে ২ বার পদোন্নতি আটকে যায় তার। কারণ হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা হওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যায় তাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার ভাই স্থানীয় উপজেলা বিএনপি নেতা এবং বিএনপির সমার্থনে ২ বার কাউন্সিলর হয়েছিলেন। সেই অভিযোগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জিএম থেকে ডিএমডি পদোন্নতি দেওয়া হয়িন সাবেক এই ছাত্রদল নেতাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী সুবিধাভোগী কিছু ব্যাংকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কিছু আমলা বঞ্চিত এই ব্যাংকারের পদোন্নতি ঠেকাতে মরিয়া হয়ে নানারকম কুটকৌশল ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাজীবনে তৃতীয় শ্রেণি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং ইতিহাসে জনতা ব্যাংকে সালাম আজাদ, কৃষি ব্যাংকে হাসান ইকবাল এবং রূপালী ব্যাংকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এমডি হয়েছেন বিগত ৬ বছরের মধ্যেই। বর্তমান বিএনপি সরকার পদোন্নতি দিয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে আব্দুর রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে বারবার বঞ্চিত কর্মকর্তা গোলাম মর্তূজার ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়াজাল কেন এই প্রশ্ন ব্যাংকার ও ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট বোদ্ধাদের।
বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সততা, ঈর্ষণীয় দক্ষতা এবং নিয়মতান্ত্রিক কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে যারা নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম এক নাম মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজা। ১৯৯৮ সালে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি কর্তৃক সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে যোগদান করেন তিনি। রূপালী ব্যাংকে কর্মরত থাকাকালীন তিনি পরপর ৩ বছর বৈদেশিক বাণিজ্য ঋণ বিতরণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে সেরা ব্যবস্থাপক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৮ সালে রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে তিনি নতুন জিএম হিসেবে শিল্পঋণ বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। টানা ৫ বছর রূপালী ব্যাংকে তিনি হেড অফ ক্রেডিট ও হেড অফ ফরেন ট্রেড হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে অসংখ্য এসএমই উদ্যোক্তা ও নতুন রপ্তানিকারক সৃষ্টি হন। ২০২০ সালে করোনা মহামারি চলাকালীন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রণোদনা ঋণ বিতরণের মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকের অনেক ঋণগ্রহীতা ও রপ্তানিকারকদের ব্যবসা সচল রাখেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ চলমান রাখার ক্ষেত্রে তার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ প্রশংসাপত্র প্রদান করেন। ২০২২ সালে তার নেতৃত্বে রূপালী ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণে ১০০ ভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সনদ প্রাপ্ত হন। ২০২৩ সালে তিনি জনতা ব্যাংকে ঋণ আদায়ে বিশেষ দক্ষতা দেখান। আমদানি-বাণিজ্য ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতার জন্য জনতা ব্যাংকেও তাকে হেড অফ ফরেন ট্রেড হিসেবে দায়িত্বভার প্রদান করা হয়। জনতা ব্যাংকে টানা ৩ বছর তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রশংসিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী কঠিন সময়ে তিনি জনতা ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে টানা দুই মাস অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এখানে তিনি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় অনন্য দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন যা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংকিং সেক্টরের সবাই অবগত । বৈদেশিক বাণিজ্যে তার রয়েছে আন্তর্জাতিক সনদ। বর্তমানে সরকারি ব্যাংকের এমডি ও ডিএমডিদের মধ্যে তিনিই একমাত্র আইসিসি সার্টিফাইড ফরেন ট্রেড স্পেশালিস্ট। রূপালী, জনতা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্তরে এসএমই ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ে তিনিই একজন নিয়মিত প্রশিক্ষক, যার দ্বারা ব্যাংকগুলোর অসংখ্য কর্মকর্তা উপকৃত হয়েছেন। তার দ্বারা প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাগণ বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার দক্ষতা ও জ্ঞানের জন্য মাঠ পর্যায়ে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি হতে আগস্ট ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার কৃষক পরিবারকে ঋণমুক্ত করার মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যাংক হিসেবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা রাজশাহীসহ সারাদেশে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তার দায়িত্বকালীন সময়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধি পায় প্রায় ৯শ’ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণের হার পূর্বের ৩১% হতে ১৬% হ্রাস পায়। এই অনন্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয় তার প্রতি সাধুবাদ জানায় এবং তার এই অসাধারণ নেতৃত্বের ফলে রাকাবের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হন। প্রায় আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংকিং সেক্টরে তথা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষভাবে অবদান রাখা এই কৃতি ব্যাংকারের দক্ষতা ও সফলতাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিচার করা শ্রেয় বলে সচেতনমহল মনে করেন।