রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক মোসাম্মাৎ রোকেয়া খাতুন পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চাকরিবিহীন অবস্থায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রোকেয়া খাতুন জানান, ২০১০ সালের ৮ মার্চ মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছর সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ২২ মে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা জিন্নাত ফারহানা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমীকে দায়ী করেছেন।
প্রশাসনের নির্দেশেও যোগদান করতে পারছেন না—অভিযোগ
রোকেয়া খাতুনের দাবি, চাকরি থেকে অব্যাহতির পর পুনর্বহালের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিতে যোগদানের অনুমতি দেয়। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক তাকে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি
রোকেয়া খাতুন আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অর্থ আত্মসাতের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ এবং বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ব্যবস্থা নেওয়া ও জরিমানার কথাও দাবি করেছেন তিনি।
পুনর্বহালের আকুতি
রোকেয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘ ১৫ মাস চাকরির বাইরে থাকায় তিনি আর্থিক ও পারিবারিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাকে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক পদে পুনর্বহালের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যেন আমার পেশাগত অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং আমার চাকরি ফিরে পেতে চাই।” রোকেয়া খাতুন তার অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

