লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের পরও তিনি একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, মামলা ও তদন্তের বিষয় সামনে আসার পরও যদি তিনি একই পদ ও কর্মস্থলে বহাল থাকেন, তাহলে অধীনস্থ বন কর্মীদের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হবে? সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বন বিভাগের অপেক্ষাকৃত নিম্নপদের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, বদলি, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা শাস্তিমূলক কার্যধারার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও একই ধরনের দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় বৈষম্যমূলক আচরণের প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ, মামলা বা তদন্ত চলমান থাকলে কর্তৃপক্ষ কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। তাদের মতে, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও আইনের প্রয়োগ পদভেদে ভিন্ন হওয়া উচিত নয়। অধীনস্থ কর্মীদের ক্ষেত্রে যে মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও একই ধরনের নীতিমালা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এদিকে, ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত অভিযোগ ও তদন্তের বিষয় সামনে আসার পরও যদি প্রশাসনিক কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকে, তাহলে এর পেছনে কারণ কী? বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

