নিজস্ব প্রতিবেদক: যুদ্ধাপরাধ মামলায় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে জামায়াত নেতাদের আপিল আবেদনের নিষ্পত্তির কাজ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ জামায়াত নেতার আপিল আবেদনের মধ্যে পাঁচজনের আপিল নিষ্পত্তি ও বিলুপ্তি হয়ে এখন বিচারাধীন আছে পাঁচ নেতার আপিল আবেদন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ মোট ৯ যুদ্ধাপরাধীর আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ।
এসব আবেদনের নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলমান। মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের আপিলের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়েমানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
তবে বাকি যুদ্ধাপরাধীদের আপিল আবেদনগুলো কবে নাগাদ নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
ইতোমধ্যে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাঈন সাঈদীর আপিল আবেদনের শুনানি করে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আপিল বিভাগ।
জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম মারা যাওয়ায় তার আপিল আবেদনটি অ্যাবেট (বিলুপ্তি) ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ।
জামায়াতের বাকি পাঁচ নেতার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
এ আবেদনগুলোর কার্যক্রমের প্রথমেই আছে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মামলা। ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে মুজাহিদ আপিল করেন। তার আবেদনটি শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
এরপর রয়েছে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামির মামলা। তিনি ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন। নিজামির মামলাটির আপিল আবেদন আপিল বিভাগের শুনানির প্রস্তুতির জন্য কার্যতালিকায় তিন বার এসেছে । গত ৯ মার্চ এ মামলার আপিলের সারসংক্ষেপ আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষকে জমা দেয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
নিজামির পরে রয়েছে দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর মামলা। কাসেম আলী তার রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন।
এরপর আছে দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন গত ২৮ জানুয়ারি।
সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন দলের নায়েবে আমির আব্দুস সোবহান। তিনি আপিল করেন ১৮ মার্চ ।
এই মুহূর্তে এ মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল । এ আবেদনগুলোর ওপর শুনানির দিন ধার্যের জন্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহিষ্কৃত আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেন, হবিগঞ্জের সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারের আপিল পর্যায়ক্রমে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেয়া আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পিরোজপুরের সাবেক এমপি পলাতক জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক বছর পাঁচ মাসের মাথায় গতকাল শনিবার আরেক যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর হলো। ইতোমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, জয়পুরহাটের বিএনপি নেতা আবদুল আলীম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জামায়াত নেতা একেএম ইউসুফ।
গত এক বছরে ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আটটি মামলার রায় হয়েছে। রায়ে সাতজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও একজন জব্বার ইঞ্জিনিয়ারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এই আমৃত্যু সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে।
বিচারাধীন এসব আপিলের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির বলেন, ‘আমরা আশা করি মহামান্য আপিল বিভাগ শুনানি অন্তত আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রদত্ত সাজা থেকে প্রত্যেককেই খালাস দেবেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, ‘আমরা আশা করছি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইবুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক। তবে এ মামলাগুলোর আপিলের শুনানি শেষে আদালত কী রায় দেবেন সেটি আমারা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। আমরা আশা করি তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক।’

