ঢাকাMonday , 10 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেখার যেন কেউ নেই
এলজিইডিতে পিকআপ ক্রয়ে দুর্নীতির ভয়াবহ অভিযোগ

Link Copied!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিকআপ ক্রয় কেলেঙ্কারি নিয়ে চলছে ব্যাপক হৈচৈ। বিষয়টি শীর্ষ কর্মকর্তারা জানলেও এ নিয়ে যেন কোন মাথা ব্যথা নেই। বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে এলজিইডির আরসিআইপি প্রকল্পের অধীন দেশের সকল জেলা পর্যায়ে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য ২ শতাধিক মিনি পিকআপ ক্রয় করা হয়। ভারতীয় নিম্নমানের পিকআপগুলো ক্রয়ের নামে ব্যাপক লুটপাট সংঘটিত হয়। এলজিইডির তৎকালিন প্রধান প্রকৌশলী এবং আরসিআইপি প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের যোগসাজসে অত্যন্ত সুকৌশলে পিকআপগুলো ক্রয় করা হয়। পিকআপগুলোর ইঞ্জিন, চেসিস, টায়ার এবং বডি সবকিছুই অত্যন্ত নিম্নমানের। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের মিনি পিকআপগুলোর প্রয়োজন না থাকলেও রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ লুটপাটের জন্য এই কাজটি করেছেন তারা। পিকআপগুলো বর্তমানে অকেজো অবস্থায় জেলা পর্যায়ের এলজিইডি কার্যালয়ে পড়ে আছে। যা কোন কাজে আসছে না। অথচ উপজেলা প্রকৌশলীরা ডাবল কেবিন পিকআপের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকারি মালামাল সরবরাহে অনেক সময় জরুরী ভিত্তিতে পিকআপের প্রয়োজন হয়। যে কারণে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়ীর প্রয়োজন থাকলেও তড়িঘড়ি করে হীন উদ্দেশ্যে নিম্নমানের ভারতীয় মিনি পিকআপগুলো ক্রয় করে ব্যাপক অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এলজিইডির সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের বিশ্বস্ত সহযোগী রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুপমেন্ট প্রজেক্টের (আরসিআইপি) সাবেক প্রকল্প পরিচালক, চুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা কামরুল ইসলামের ইন্ধন ও পরামর্শে নিজেদের আখের গোছাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের লক্ষ্যেই সুপরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের মিনি পিকআপগুলো ক্রয় করা হয় বলে উক্ত প্রজেক্টে কর্মরত একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান। এ ব্যাপারে তৎকালিন প্রকল্প পরিচালক লুটেরা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম তার নিজের মত ব্যাখ্যা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছেন নিজেকে। দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পেয়েই রাজধানীর উপকন্ঠ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, ঘুষখোর প্রকৌশলী, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ এলজিইডি শাখার অন্যতম নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের যথাযথ তদন্ত না করে পদোন্নতি দিয়ে এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নারায়ণগঞ্জে পদায়ন করায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এলজিইডিতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেছেন, এ রকম একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজের বিচার না করে উপরন্তু পদোন্নতি দিয়ে প্রাইজ পোস্টিং দেওয়ায় দুর্নীতিবাজরা আরও উৎসাহিত হবে। সুতরাং ভারতীয় নিম্নমানের মিনি পিকআপ ক্রয়ে কি পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় হয়েছে এবং এ দায় কার তা দ্রুত তদন্তের দাবী জানিয়েছেন সচেতনমহল। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিজ্ঞমহল। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর দায় নিতে নারাজ এবং লুটপাটের বিষয়টিও অস্বীকার করেন।