ঢাকাSaturday , 11 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো ছাড় নয়: সিইসি

Link Copied!

city-elactionচট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কোন ধরণের ছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ও ভোট বাক্স ছিনতাইও যে কোন মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
নগরীর হল টোয়েন্টিফোর মিলনায়তনে শনিবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রামের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। চট্টগ্রাম রিটার্র্নিং অফিসারের কার্যালয় ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সিইসি বলেন, ‘আমাদের মেয়াদে ৬টি সিটি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারও নির্বাচন স্ষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটের ব্যালেট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখলের মত যে কোন ধরনের অন্যায় কাজে কোন ছাড় দেওয়া হবে। এসব অপকর্ম কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এধরণের কোন কর্মকাণ্ড যাতে চট্টগ্রামে না ঘটে সেজন্য পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশে দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনী কার্যক্রমে যারা নিয়োজিত আছেন, তাদের আমি নির্দেশ দিচ্ছি আপনারা আপনাদের উপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোন ধরণের পিছ হবেন না। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে কাজ করুন।’
কাজী রকিবউদ্দীন বলেন, ‘আপনারা যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সকলেই সম্মাণিত ও শিক্ষিত মানুষ। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনেই আপনারা নির্বাচনী প্রচারণা চালান। কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করতে পারবেন না। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে শোকজ, জমিনা ছাড়াও প্রার্থীতা বাতিল করা হবে। তাই আমারা চাইনা আপনাদের অসম্মানিত করতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যে বিধিমালা রয়েছে তা আইন। সেই আইন ভেঙ্গে নিজেদের বিপদগ্রস্থ করবেন না। নির্বাচন কমিশনের কোন কাজে আপনাদের অসন্তুষ্টি থাকলে তা আপনারা আমাদের বলতে পারেন। সেদিকে না হলেও আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।’
সিইসি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আচরণবিধি লঙঘন করেছেন। বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে পর্ডবেক্ষণ করছি। মাঠে নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আমাদের টিম রয়েছে। বিধি লঙঘন করলেই শাস্তির মুখোমুখি পড়তে হবে।’
প্রার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে সিইসি বলেন, ‘বিধিবিধান সমুন্নত  রেখে প্রচারণা চালাবেন। যাতে করে চট্টগ্রাম সারা দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। অনেক ঐতিহ্য সৃষ্টির রেকর্ড এই চট্টগ্রামের রয়েছে। যথা সময়ে বন্দর নগরীর এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আপনাদের একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘একজন প্রার্থীর উপর অতর্কিত হামলা হয়েছে বলে জানলাম। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে থানা পুলিশকে জানাবেন। এছাড়া থানায় মামলা করবেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’
ভোটের আগের দিনে ভোট কেনার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবেন। এর আগে সুষ্ঠুভাবে সিটি নির্বাচন করতে পেরেছি, এবারও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। প্রার্থীদেরও এ বিষয়ে সর্তক ও সৎ হতে হবে। আইন-শৃখলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
ভোটের ফলাফলে কোন ধরণের অনিয়ম হবে জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘ভোট গ্রহণের পর স্বচ্ছ ব্যালেট বাক্সে সিলগালা করে দেওয়া হয়। ভোট গণনার সময় সাংবাদিক, প্রার্থীর এজেন্টের সামনে স্বচ্ছতার সাথে ভোট গণনা করা হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরণের অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রার্থীদের আবেদনের  প্রেক্ষিতে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনীবিধি অনুযায়ীই ২১ দিন পূর্বে থেকে প্রচারণা করতে হবে। এক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। প্রার্থীদের সব প্রচারণা নিয়মের মধ্যে থেকেই করতে হবে।  ভোটারদের যাবতীয় তথ্য এসএমএস এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা জানিয়ে দেব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বলেন, ‘চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন করতে আমাদের এই মত বিনিময় সভার আয়োজন। ইসির উদ্দেশ্য সকলের অংশ গ্রহণে দেশে-বিদেশী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। চট্টগ্রামের প্রায় ১৮ লক্ষাধিক ভোটার যাতে স্বাচ্ছন্দে, নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে ব্যবস্থা আমারা নিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রার্থীদের বিধি-বিধান মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। বিশেষ করে নির্বাচনী আচরণের ৩ থেকে ১০ নম্বর ধারাগুলো মেনে চলা খুবই জরুরী। আপনার যদি এসব বিধিগুলো মেনে চলেন তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও বাধ্য করবেন না যাতে আমরা আইনের প্রয়োগ করি।’
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশিত সময়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রার্থীরা আপনারা জনগণের প্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন। জন প্রতিনিধি হতে গিয়ে আইন লঙঘন করবেন না। নির্বাচনীবিধি লঙঘনে শাস্তির বিধান থাকলেও আমরা চাইনা আপনাদের এই শাস্তির মুখোমুখি করিয়ে অসম্মানিত করতে।’
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইসির পক্ষ থেকে যেসব বিধিমালা জারি করা হয়েছে এগুলো সব আইন। সেজন্য এ্ই বিধি ভঙ্গ করলেই আপানাদের আইন ভঙ্গের অপরাধে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ইতোমধ্যে অনেকে নির্বাচনী বিধি লঙঘন করেছেন। ভবিষ্যতে সাবধান হয়ে যান যাতে এ ধরণের কোন কিছু না হয়। প্রয়োজনে প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে।’
মত বিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক  মেজবাহ উদ্দিন ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল।
প্রার্থীদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের  মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম, জাতীয় পাটির মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম  শেঠসহ অন্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।