ঢাকাSunday , 12 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক ও অর্থ গোপনের অভিযোগে তদন্ত ডিএনসির কর্মকর্তা জিল্লুরের বিরুদ্ধে

Link Copied!

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ অর্থের প্রকৃত হিসাব গোপনের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিএনসি। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠা ওই পরিদর্শককে উত্তরা সার্কেল থেকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ডিএনসির পৃথক দুটি অফিস আদেশে জানা যায়, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পরিচালক (নিরোধ, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা) রাজীব আহসানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম, উপপরিচালক (অপারেশনস) মুকুল জ্যোতি চাকমা এবং সহকারী পরিচালক (অপারেশনস) ফয়সাল মাহমুদ। কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী তথ্যদাতা (সোর্স) আবুল খায়েরের দাবি, গত ৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত তিনটি পৃথক অভিযানে এক হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, ৪০০ গ্রাম হেরোইন, ২০ হাজার পিস ইয়াবা এবং দুই লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় উদ্ধার হওয়া আলামত ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য সোর্সমানিও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবুল খায়েরের ভাষ্য, পশ্চিম সানারপাড়ের একটি অভিযানে প্রকৃত উদ্ধার হওয়া অর্থের তুলনায় মাত্র ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ দেখানো হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে নিরীহ ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার মতো অনিয়মও সংঘটিত হয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
তিনি জানান, প্রথমে ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিলেও যথাযথ তদন্তের পরিবর্তে তাঁকে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি ডিএনসির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তাঁর দাবি, মহাপরিচালক অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরিদর্শক জিল্লুর রহমানকে ভর্ৎসনা করেন, প্রাপ্য সোর্সমানি পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবুল খায়ের। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত কমিটির একজন সদস্য অভিযোগভুক্ত কর্মকর্তার নিকট আত্মীয় হওয়ায় তদন্তে স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থের প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, “সোর্স আবুল খায়েরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কমিটিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।