চাঁদপুর প্রতিনিধি: দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয় চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। বছর না পেরোতেই কাঁচামাল (গ্যাস) সংকটে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এরপর থেকে বছরের অর্ধেক সময় জুড়ে উৎপাদন বন্ধ থাকে। ফলে ১২শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড। ফলে ওই দিন থেকেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন। দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে গত ৪ এপ্রিল ভোরে পুনরায় শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন। যদিও চাহিদার তুলনায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘পরিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজন ৩০ এমএল সিএফটি গ্যাস। কিন্তু বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড চাহিদার অর্ধেক অর্থাৎ ১৫ এমএল সিএফটি সরবরাহ করায় আপাতত ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। আশা করা যায় সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পূর্ণমাত্রায় শুরু করা যাবে।’
এদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর প্রতি বছর সেপ্টেম্বর/অক্টোবর থেকে টানা ৬/৭ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকে। এ কারণে দেশবাসীর সাঙ্গে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কায় থাকে চাঁদপুরের সিকি কোটি মানুষ। গরম আসলেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যহত হয়।
চাঁদপুরে পাওয়ার জেনারেশন কোস্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পুরো জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১শ ১০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ৩৫-৪০ মেগাওয়াট। এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পিডিবির আবাসিক (নির্বাহী) প্রকৌশলী রূপক কান্তি মজুমদার জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি জানান, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে।
২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুর শহরের গুণরাজদী বালুর মাঠে ১২শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি নির্মাণে দায়িত্ব দেয়া হয় চায়না চেংদা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড নামে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা থাকলেও ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করে। প্রথম দিকে প্রতিদিন ১শ ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। পরবর্তীতে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।ৃ

