ঢাকাSaturday , 23 May 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার এলজিইডির প্রকৌশলী ফিরোজ তালুকদার 

এম আর সুমন
May 23, 2026 9:29 pm
Link Copied!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেধাবী ও চৌকস প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদার বার বার মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছেন। সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার প্রদত্ত ভুল তথ্য গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জেরে কপাল পুড়তে যাচ্ছে উক্ত প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের। প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারকে নিয়ে রাস্তা না করে অগ্রীম বিল প্রদান শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক পাঞ্জেরীর এই প্রতিবেদক অনুসন্ধানে নামেন। অনুসন্ধানকালে উঠে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। অসত্য তথ্য পরিবেশনের ফলে বেকায়দায় পড়েন মেধাবী এই প্রকৌশলী। সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া স্ব প্রণোদিত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে যেসব তথ্য দিয়েছেন তা অনুসন্ধানীকালে সন্দেহ হলে অধিকতর যাচাই বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয় আমাদের পক্ষ থেকে। এতে দেখা যায় তৎকালীন ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চুমিয়া তার পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের বিষয়ে যে তথ‍্য দিয়েছে তা নানা প্রশ্ন উঠেছে। মূলত ফিরোজ আলম তালুকদার কাজ না করে কোন ধরনের অগ্রীম বিল প্রদান করেননি বলে জানা গেছে। তিনি যে টুকু কাজ হয়েছে শুধুমাত্র ততটুকু পরিমাণেরই চলতি বিল প্রদান করেছেন। অভিযোগকৃত ৩টি রাস্তার বিস্তারিত তথ‍্য যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় রাস্তার নামঃ দেবীনগর আজর আলী মোল্লার বাড়ী-হাশেম মাদবরের বাড়ী-করিম মোল্লার বাড়ী-সড়ক উন্নয়ন। চেইনেজ: ০-৬৩০ মিটার, ঠিকাদার: নূর এন্টার প্রাইজ, চুক্তি মূল‍্য: ৬৬,৪২,১৬৩.৪৫ টাকা, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ১১/০৬/২০২২, ১ম চলতি বিল: ২৬,২১,৭৮৪.০০ টাকা, তারিখ: ০৬/০২/২০২৪, ২য় চলতি বিল: ৮,৯৭,৪৩৭.০০ টাকা, তারিখ: ১৩/০৬/২০২৪
উপরোক্ত কাজটি প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মজিবর রহমান দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ফিরোজ আলম তালুকদার উপজেলা হতে আগত কাজের উপর ভিত্তি করে ৪০০ মিটার WBM কাজের ১ম চলতি বিল প্রদান করেন। তিনি পবিত্র হজ্জে গমনকালে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তৎকালীন গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান ২য় চলতি বিল প্রদান করেন। সূত্র জানায়, কোন ধরনের অগ্রীম বিল প্রদান করা হয়নি। কাজটি ইতোমধ‍্যে সমাপ্ত হয়েছে। বরং অফিসের কাছে ঠিকাদাররের এখনও ৩১,২২,৯৪২.৪৫ টাকা পাওয়া আছে। রাস্তার নামঃ রাধানগর করিম খানের বাড়ী-বাদশা মাতবরের বাড়ী- কৃষ্ণদেবপর স‍্যাটেলাইট স্কুল-খালেক ফরিকের বাড়ী সড়ক উন্নয়ন, চেইনেজ: ০-১১৭০ মিটার, ঠিকাদার: বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন, চুক্তি মূল‍্য: ১,২২,১৯,৯৯৪.৭৮ টাকা, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ২১/০৪/২০২২, ১ম চলতি বিল: ৪০,৮৯,২৭৪.০৩ টাকা, তারিখ: ০১/০৩/২০২৩, ২য় চলতি বিল: ৪২,১৪,৩০২.০০ টাকা, তারিখ: ১৫/০৬/২০২৩।
উপরোক্ত কাজটি ফিরোজ আলম তালুকদারের পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মজিবর রহমান দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ফিরোজ আলম তালুকদার উপজেলা হতে আগত কাজের উপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে ১ম এবং ২য় চলতি বিল বাবদ WBM পর্যন্ত মোট ৮৩,০৩,৫৭৬.০৩ টাকা বিল প্রদান করেন। ঠিকাদার WBM পর্যন্ত করার পর আর কাজ সম্পন্ন করেনি। কাজটি ইতোমধ‍্যে বাতিল করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রেও কোন ধরনের অগ্রীম বিল প্রদান করা হয়নি। রাস্তার নাম: বন্দুরা (আলালপুর)-বারুয়াখানী-শিকারিপাড়া রাস্তা প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালী করন। চেইনেজ:০-৫৩১০ মিটার, ঠিকাদার: এসএম ট্রেড ইন্টারন‍্যাশনাল, চুক্তি মূল‍্য: ৯,০২,৩৬,৯৬২.৪৬৮ টাকা, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ২৮/০৮/২০২২, ১ম চলতি বিল: ৩২,০১,৯০০.০০ টাকা, তারিখ: ২৫/০৫/২০২৪
বর্ণিত কাজটি ফিরোজ আলম তালুকদারের পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মজিবর রহমান দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পর ঠিকাদার কাজটি শুরু করেন। ফিরোজ আলম তালুকদার উপজেলা হতে আগত Palisading (Road Protective work) কাজের উপর ভিত্তি করে ১ম চলতি বিল প্রদান করেন। সূত্র জানায়, কাজ না করে কোন ধরনের অগ্রীম বিল প্রদান করা হয়নি। গত সপ্তাহে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারকে একটি প্রকল্পের ‌”প্রকল্প পরিচালক‍” পদে পদায়নের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে তিনি যেন সেই প্রকল্পের পিডি হতে না পারেন সেজন‍্যই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে কাজ না করে অগ্রীম বিল সংক্রান্ত পুরনো সেই সংবাদটি সামনে নিয়ে আসেন এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে সূত্র জানায়। এদিকে, এলজিইডিতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটির যে তালিকা দেয়া হয়েছে এটা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ঐ কমিটিকে অনেকেই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন। ৫ আগষ্টের পর এলজিইডির কতিপয় কর্মকর্তা ব‍্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন‍্য সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে একটা তালিকা তৈরী করেছে বলে সূত্র জানায়। এরকম একাধিক তালিকা ফেসবুকে ঘুরে বেড়ায়। এই তালিকায় নাম থাকার পরও ৫ আগস্টের পর অনেকে প্রধান প্রকৌশলী হয়েছেন, বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, পিডি নিযুক্ত হয়েছেন। এমনকি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তালিকায় থাকা ব‍্যক্তিদের অনেকের পদোন্নতি হয়েছে এবং পিডিও নিয়োগ হয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যখন যাকে ঘায়েল করার প্রয়োজন হয় তখন এই কমিটিতে নাম থাকার অজুহাতে তাকে পদোন্নতি অথবা পিডি নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়া হয়। আবার অনেকের নাম থাকলেও পদোন্নতি অথবা পিডি নিয়োগে কোন সমস‍্যা হয় না।
সূত্র জানায়, প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদার এলজিইডির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলামের রোষানলে পড়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর দপ্তরবিহীন হয়ে সদর দপ্তরে সংযুক্ত থাকেন এবং ২ বার পদোন্নতি বঞ্চিত হন।