ঢাকাSaturday , 23 May 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডজনখানেক ওয়ারেন্ট নিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে
‎আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি—ভোল পাল্টেও থামেনি প্রতারণা

Link Copied!

একটি বা দুটি নয়, অন্তত ১২টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে ধানমন্ডির সেই ভয়ঙ্কর প্রতারক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এতগুলো গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নতুন কাউকে ফাঁদে ফেলতে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করছেন। মাঝে মধ্যে নারীসহ বিভিন্ন শপিং মল, ক্যাফে, রিসোর্টসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রেও তাকে ঘুরতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সচল রয়েছে তার ব্যবহৃত সবগুলো মোবাইল নম্বরও। অথচ পুলিশ বলছে, মুজিবুর আত্মগোপনে। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

‎এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার পতনের সাথে সাথে মুজিবুরও ভোল পাল্টেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ছিলেন ওই দলটির ছোটখাট পদধারী নেতা। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতার সঙ্গেই ছিলো তার গভীর সখ্যতা। প্রতারণা করে উপার্জনের অবৈধ অর্থ এবং মূল্যবান উপঢৌকন দিয়ে তিনি ম্যানেজ করেছিলেন একাধিক এমপি-মন্ত্রীকেও। যাদের সঙ্গে সেলফি তুলে তা ব্যবহার করতেন প্রতারণার কাজে। কিন্তু সেই মুজিবুরই এখন নিজের মাথার ওপর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ঝুলিয়ে রেখেছেন। হাতে ধরা ধানের শীষের ছবি ব্যবহার করে নিজেকে বিএনপিপন্থী সাজানোর অপচেষ্টা করে চলেছেন।

‎জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেইনম্যান এই মুজিবুর কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আবার কখনো রাজউকের অথরাইজড অফিসার পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। অথচ এই প্রতারককে অসদাচরণের কারণে খুলনার কর্মস্থল থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় চেইনম্যানের পদ থেকে।

‎বর্তমানেও তার প্রতারণা থেমে নেই। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যকে ম্যানেজ করে তিনি এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে পূর্বাচলে জায়গা বিক্রির কথা বলে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মুজিবুর।

‎পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মুজিবুর শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই প্রতারণা করেনি। সে পুলিশের অনেক সদস্যের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এমনকি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এসব অভিযোগে এর আগে তাকে একাধিকবার গ্রেফতারও করা হয়। তবে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে একই কাজ করে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শিক্ষক এখন পথের ফকির। এক মুরব্বির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। টাকা চাওয়ায় তাকে মিথ্যা কথা বলে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি নির্জন কক্ষে আটকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে। এরপর অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূবর্ক স্টাম্পে সই করিয়ে নেয়। এমন সব অভিযোগ থাকার পরও প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড মুজিবুর এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। আ’লীগের নেতা হলেও এখন তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে প্রচারণা চালান।

‎১১ মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে ঘুরে বেড়ানো মুজিবুর কেন গ্রেফতার হচ্ছে না জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইনকিলাবকে বলেন, মুজিবুরের বিরুদ্ধে জারি করা ওয়ারেন্ট তামিল করতে ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুজিবুর ধরা পড়বেন এমনটাই দাবি করছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।