ঢাকাSaturday , 23 May 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু রিফাত হত্যায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য 

Link Copied!

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় সাত বছরের শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাশের ফ্ল্যাটের সাবেক বাসিন্দা মায়া আক্তারের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানিয়েছে, রুটি ও কলা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ চালের ড্রামে ভরে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে গেন্ডারিয়া এলাকার ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কদমতলীর খানকা শরীফ পুকুরপাড় এলাকায় খেলতে বের হয় শিশু রিফাত। দুপুর গড়িয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে পরিবার পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

নিখোঁজের পরদিন রাতে গেন্ডারিয়ার লোহারপুল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে একটি চালের ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। ড্রাম খুলে ভেতরে পাওয়া যায় শিশু রিফাতের মরদেহ।

তদন্তের শুরুতে ঘটনার কোনো সূত্র পাচ্ছিল না পুলিশ। তবে মরদেহে মোড়ানো একটি পোশাক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। সেই পোশাকের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, কদমতলী এলাকার এক সাবেক ভাড়াটিয়ার মেয়ের কাছে এমন পোশাক ছিল।

পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি মায়া আক্তার একটি ড্রাম অটোরিকশায় তুলে বাসা থেকে বের হচ্ছেন। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে।

কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে রিফাতের পরিবার ও মায়া পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সে সময় একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় রিফাত ও তার পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ করতেন মায়া। সেই ক্ষোভ থেকেই শিশুটিকে একা পেয়ে বাসায় ডেকে নেয় সে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিফাতকে চুরির কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় খাটের সঙ্গে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় শিশুটিকে। পরে মরদেহ লুকানোর জন্য ঘরে থাকা একটি চালের ড্রামে কিছু চাল রেখে তার ভেতরে মরদেহ ভরে রাখা হয়। সারারাত পাহারা দেওয়ার পর সকালে ড্রামটি গেন্ডারিয়ায় নিয়ে ফেলে আসে মায়া।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, হত্যার পর নিজেকে আড়াল করতে রিফাতের পরিবারকে খোঁজাখুঁজিতেও সহায়তার অভিনয় করেন মায়া আক্তার।
এ ঘটনায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত মায়া আক্তার। নিহত রিফাতের পরিবার এ ঘটনার বিচার এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।