ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি, লুটপাট রাষ্ট্র ও জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।’
রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল জনপ্রশান এবং অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, গত আড়াই মাসে এই পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতিতে সরকার সক্ষম হয়েছে।’
বিগত সরকারের সময় দেশকে একটি আমদানি নির্ভর দেশে পরিণত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন পরিসংখ্যান যেটা বলে তা হলো—দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয়নি বললেই চলে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা যায়, অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। বিচারবিভাগ, দুদক, নির্বাচন কমিশন সবগুলো ছিল অকার্যকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বের সব দেশই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কিভাবে সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায় সরকারের সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের জন্য একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, খাদ্যে ভেজাল ও বাল্যবিবাহ রোধসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে সততা, মেধা ও দক্ষতাই জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির নীতি; এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি।

