আওয়ামী আমলে ১৭ বছর সুবিধাভোগী ও লুটেরা শফিকুল ইসলাম স্বপনকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিতে জোর লবিং চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, অদক্ষ, অযোগ্য ও বাক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম স্বপনকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বানাতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে। এতে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, উক্ত শফিকুল ইসলাম স্বপন নরসিংদী ফটিকুন্নেসা ইদ্রিস হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ছিলেন। সেখানেও নানা অনৈতিক কর্মকান্ড ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। অভিযোগে আরও জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম স্বপন বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বর্ণ চোরাকারবারী ডাঃ দিলীপ কুমার রায় ও শেখ হাসিনার আত্মীয় ডাঃ ইফতেখারকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে নরসিংদী ফটিকুন্নেসা ইদ্রিস হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের পদটি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত শফিকুল ইসলাম স্বপন নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান, সাবেক মেয়র আমজাদ হোসেন বাচ্চু, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন ভূইয়ার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং একই মঞ্চে ছবিতে তাকে দেখা গেছে। সার্বিক বিবেচনায় উক্ত শফিকুল ইসলাম স্বপন একজন চিহ্নিত আওয়ামী মতাদর্শে বিশ^াসী। কিন্তু গণঅভূত্থানের পর তিনি বিএনপিতে ব্যাপকভাবে সরব হয়েছেন। সূত্র জানায়, বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সরকার বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন ২০২৩ জারি করেছে। উক্ত আইনের মাধ্যমে সরকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একজনকে নিয়োগ প্রদান করবে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এখানে দুটি কমিটি বিদ্যমান থাকবে। একটি গভর্নিং বডি অন্যটি নির্বাহী পরিষদ। গভর্নিং বডিতে ৩ জন সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত অফিস করবেন। সেই ক্ষেত্রে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও উচ্চ শিক্ষিত একজন চেয়ারম্যান না হলে সারা বাংলাদেশের ৬৭টি মেডিকেল কলেজ, ২২ হাজার শিক্ষার্থী, ৪৮ হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক, ২৫শ গ্রাজুয়েট বিএইচএমএস চিকিৎসকদের সার্বক্ষনিক তদারকি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে সচেতনমহল মনে করছেন। সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান পদে প্রত্যাশি চিহ্নিত আওয়ামী লীগের দোসর বাক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম স্বপন এসএসসিতে কলা বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন এবং তিনি এইচএসসির বোর্ড পরীক্ষায় ৫ বার অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে তিনি ৯২ সালে ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা) পাশ করেন। প্রশ্ন উঠেছে অদক্ষ, অযোগ্য, বাকপ্রতিবন্ধী একজন ব্যক্তিকে কিসের বিনিময়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের চেয়াম্যান নিয়োগ দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক সমাজ এবং জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের জানুয়ারী মাসে একনেকের সভায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেন। যার মাধ্যমে রাজধানীর মিরপুরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও একশো শয্যার হাসপাতাল ৪০ বছর ধরে কালের সাক্ষী হয়ে চিকিৎসা সেবায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলছে। সেই প্রেক্ষিতে চিকিৎসক সমাজ আশা করছেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও উচ্চ শিক্ষিত চিকিৎসককে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিবেন। তারা আরও আশা করছেন কোন সুবিধাভোগী আওয়ামী দোসরকে যেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না দেওয়া হয়।

